বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের জন্য নির্বাচন হতে হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত হচ্ছে- এ ব্যাপারে আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। দেশ ও জনগণকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ এবং নিষ্কণ্টক আবাসস্থলে হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশ নিরাপদ না থাকলে, কেউ নিরাপদ থাকবো না।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রোববার (৩১ আগস্ট) যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নার্গিস বেগম আরও বলেন, নির্বাচন হচ্ছে একটি পথ, যা আমাদের সকলের স্বাধীনভাবে মতো প্রকাশ নিশ্চিত করে। দেশে সাবলীলভাবে গণতন্ত্রের পথ চলা অব্যাহত থাকলে দেশ অবশ্যই উন্নত হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রথমে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখার উপলদ্ধি করেছিলেন । সে কারণে তিনি সমগ্র জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নামক রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি বলেন, আজকে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির তকমা লাগানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মর্যাদা, দর্শন এবং সেন্টিমেন্ট ধারণ করে। সকল মত পথের মানুষ একত্রে সুখে স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করতে পারেন সে কারণে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার অন্যতম কারণ হলো, বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের বুকে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। দেশে যাতে গণতান্ত্রিক যাত্রা অব্যাহত এবং নিষ্কণ্টক থাকে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপির জন্ম না হলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকতো পারতো না। সিকিমের মতো অন্য একটি দেশের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতো।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বলেন, বিএনপি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আমাদের হাতে দলের যে আমানত রয়েছে সেটি রক্ষা করতে হবে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর আজও বিএনপিকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ সেই ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলামের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, বর্তমান নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. ইসহক, মিজানুর রহমান খান প্রমুখ।
পিএ/টিএ