নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার মাত্র এক মিনিট বাকি ছিল। সেটা কোনোভাবে পার হলেই সমতায় মাঠ ছাড়তে পারত ম্যানচেস্টার সিটি। তবে ঘরের মাঠ থেকে প্রতিপক্ষকে পয়েন্ট নিয়ে যেতে দেননি ব্রাইটনের ব্রাজান গ্রুদা। শেষ মুহূর্তে গোল করে ব্রাইটনকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দিয়েছেন তিনি।
গ্রুদার গোলে সিটির টানা দ্বিতীয় হার নিশ্চিত হয়ে যায়। ২-১ গোলে ব্রাইটনের কাছে হারার আগে সর্বশেষ ঘরের মাঠে টটেনহামের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল তারা।
আজ সেই হারের দুঃখ ভুলতে আমেরিকান এক্সপ্রেস স্টেডিয়ামে শুরু থেকে গোলের খোঁজে আক্রমণ করতে থাকে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে গোল পেতে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাদের।
ডি বক্সে ওমর মারমুশের পাস ধরে ব্রাইটনের জালে বল জড়িয়ে দেন আর্লিং হালান্ড। তাতে একটা কীর্তিও গড়েছেন তিনি। ১০০ ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ ৮৮ গোল করার। তার পরে আছেন ৭৯ গোল করা ইংল্যান্ডের সাবেক স্ট্রাইকার অ্যালান শিয়েরার।
কীর্তির গোলের আগে আরো দুটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন হালান্ড। ৯ মিনিটের সময় নেওয়া শটটি গোলের পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। আর ২৬ মিনিটে নেওয়া তার হেড প্রতিহত করেন গোলরক্ষক বার্ট বারব্রুগেন।
ব্রাইটনের গোলরক্ষকের মতো ম্যানসিটিকে বাঁচান জেমস ট্র্যাফোর্ডও। ১৯ মিনিটে কারু মিতোমার শটটা যখন গোলবারে জমা হবে তার আগে ব্রাইটন স্ট্রাইকারের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ম্যানসিটিকে রক্ষা করেন ট্র্যাফোর্ড।
পরে আর কোনো গোল না হলে ১-০ ব্যবধানে বিরতিতে যায় ম্যানসিটি।
তবে লিডটা দ্বিতীয়ার্ধে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ম্যানসিটি। ৬৭ মিনিটের মাথায় ব্রাইটনকে সমতায় ফেরান জেমস মিলনার। সিটির ডিফেন্ডার ম্যাথিয়েস নুনেজের হাতে বল লাগলে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। বদলি নামার ৬ মিনিটের মাথায় সফল স্পটকিকে দলকে সমতায় ফেরান ম্যানসিটির সাবেক মিডফিল্ডার। সাবেক দলের বিপক্ষে গোল করার তেমন উদযাপন না করলেও কিছুদিন আগে গাড়ি দূর্ঘটনায় মারা যাওয়া দিয়োগো জোতাকে স্মরণ করেছেন তিনি।
লিভারপুলের প্রয়াত স্ট্রাইকার জোতার ট্রেডমার্ক উদযাপন করেছেন মিলনার। ২০২৩ সালে ব্রাইটনে যোগ দেওয়ার আগে লিভারপুলে পর্তুগিজ তারকার সঙ্গে মাঠ মাতিয়েছেন। আর মিলনার ম্যানসিটি ছাড়েন ২০১৫ সালে। পেনাল্টি থেকে যে গোলটি করেছেন তাতে এক দীর্ঘ খরা কাটিয়েছেন তিনি। ৬ বছর পর গোল পেয়েছেন তিনি। ব্রাইটনের হয়ে যা প্রথম। ২০১৯ সালে লেস্টার সিটির বিপক্ষে করা গোলটাও ছিল পেনাল্টিতে।
সঙ্গে একটা রেকর্ড গড়েছেন মিলনার। প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় বয়স্ক খেলোয়াড় হিসেবে গোল পেয়েছেন তিনি। গোলের সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৯ বছর ২৩৯ দিন। ৪০ বছর ২৬৮ দিন বয়সে গোল করে রেকর্ডটা নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন টেডি শেরিংহাম। ২০০৬ সালে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ওয়েস্ট হামের হয়ে গোলটি করেন তিনি।
মিলনারের গোলে সমতায় ফেরা ব্রাইটনকে শেষ মুহূর্তে উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেন ব্রাজান গ্রুদা। ম্যাচ শেষ হতে তখন আর এক মিনিট বাকি ছিল ঠিক তখনই দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাকে পেপ গার্দিওলার দলকে স্তব্ধ করে দেন তিনি। আর পুরো অ্যামেক্স স্টেডিয়ামকে আনন্দে ভাসান। তার আগে ৮৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছি ব্রাইটন। তবে অবিশ্বাস্য এক সেভ করেন সিটির গোলরক্ষক ট্র্যাফোর্ড। সে যাত্রায় দলকে বাঁচালেও শেষ পর্যন্ত লিগে ম্যানসিটির টানা দ্বিতীয় হার এড়াতে পারেননি তিনি।
এফপি/ টিকে