• ঢাকা, বাংলাদেশ
  • সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

১৫২৮-২০১৯: ৪৯১ বছরের মসজিদ-মন্দির বিতর্ক

১৫২৮-২০১৯: ৪৯১ বছরের মসজিদ-মন্দির বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৫পিএম, ঢাকা-বাংলাদেশ।

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ তৈরি হওয়ার ৪৯১ বছর পর শনিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানাল, সেখানে রামমন্দির নির্মাণ করা হবে। আর মসজিদ নির্মাণ করা হবে অন্যত্র।

চলুন দেখে নেওয়া যাক বাবরি মসজিদ ও রামমন্দির নিয়ে বিতর্কের ইতিহাস:

১৫২৮: অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করেন মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি। এর আগে তুর্কিস্তানের জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর ১৫২৬ সালে দিল্লি দখল করে প্রতিষ্ঠা করেন মোগল সাম্রাজ্য। ১৮৫৭ সালে এটা যায় ইংরেজদের দখলে।

১৮৮৫: ফৈজাবাদের জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে রামমন্দির-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত কাঠামোর বাইরে শামিয়ানা তৈরি করে রামলালার মূর্তি স্থাপনের আবেদন জানান মহন্ত রঘুবীর দাস। ব্রিটিশ আদালত সে আবেদন খারিজ করে।

১৯৪৯: ভারতের স্বাধীনতার দেড় বছর পর ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বাবরি মসজিদের মূল গম্বুজের নিচে নির্মাণ করা হলো রামলালার মূর্তি। হিন্দুরা দাবি করেন, রামলালা প্রকট হয়েছেন।

১৯৫০: গোপাল সিমলা ও মহন্ত রামচন্দ্র দাস বাবরি মসজিদের স্থানে রামলালার পূজা করার জন্য আদালতে আলাদা আলাদা মামলা করেন।

১৯৫৯: বাবরি মসজিদের জায়গা হিন্দুদের মালিকানা দাবি করে মামলা করেন নির্মোহী আখড়া।  

১৯৮১: উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে তখন বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং। বাবরি মসজিদের মালিকানা দাবি করে মামলা করেন উত্তর প্রদেশ সেন্ট্রাল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৬: বাবরি মসজিদের দরজা হিন্দুদের জন্য খুলে দিতে বলল ফৈজাবাদের আদালত।

১৪ আগস্ট, ১৯৮৯: বাবরি মসজিদের জমিতে স্থিতিবস্থা বহাল রাখার নির্দেশ দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২: ওই দিন কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেন। এ নিয়ে সৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় অন্তত দুই হাজার লোক নিহত হয়। নিহতদের অধিকাংশই মুসলিম।

৩ এপ্রিল ১৯৯৩: পার্লামেন্টে আইন পাস করে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের জায়গার দখল নেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

২৪ অক্টোবর ১৯৯৪: ঐতিহাসিক ইসমাইল ফারুকীর মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জানালেন, কোনো একটা মসজিদকে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে ধরা হবে না।

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১০: অযোধ্যা মামলার রায় দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ওপর ভিত্তি করে জানান,  বিতর্কিত জমি তিন ভাগে ভাগ করে দেয়া হচ্ছে- সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া ও রামলালা বিরাজমানের মধ্যে।

৯ মে, ২০১১: এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

২১ মার্চ, ২০১৭:  ভারতের প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর বললেন, আদালতের বাইরে মীমাংসা করে নেওয়া হোক অযোধ্যা বিতর্কের।

৭ আগস্ট, ২০১৭: অযোধ্যা মামলার শুনানির জন্য তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট।

২০ নভেম্বর, ২০১৭: উত্তর প্রদেশের শিয়া সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড জানায়, অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণে আপত্তি নেই। তার পরিবর্তে লক্ষ্ণৌতে মসজিদ বানিয়ে দেওয়া হোক।

৫ ডিসেম্বর, ২০১৭: প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এস আব্দুল নাজিরের বেঞ্চে আবার নতুন করে শুরু অযোধ্যা মামলার শুনানি।

২৯ অক্টোবর, ২০১৮: প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে আবার নতুন করে তিন বিচারপতির বেঞ্চ গঠন।

৮ জানুয়ারি, ২০১৯: প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গঠন।

২ আগস্ট, ২০১৯: মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ। প্রধান বিচারপতি জানালেন, ৬ আগস্ট থেকে প্রতিদিন শুনানি হবে অযোধ্যা মামলার।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯: মধ্যস্থতা কমিটিকে আবার আলোচনা শুরু করার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। এই মাসের মধ্যে আলোচনা শেষ করার নির্দেশ।

১৬ অক্টোবর, ২০১৯: প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বললেন, অনেক হয়েছে, আজই শেষ করতে হবে অযোধ্যা মামলার শুনানি।

৯ নভেম্বর, ২০১৯: ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়, বাবরি মসজিদের স্থানেই নির্মাণ হবে রামমন্দির। মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্যত্র দেওয়া হবে পাঁচ একর ভূমি।

 

টাইমস/এসআই

অযোধ্যার রায়ে কারও জয় বা পরাজয় দেখা উচিত নয়: মোদি

অযোধ্যার রায়ে কারও জয় বা পরাজয় দেখা উচিত নয়: মোদি

বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ভারতের

বাবরি মসজিদের জায়গায় হবে রামমন্দির: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

বাবরি মসজিদের জায়গায় হবে রামমন্দির: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আইনি লড়াইটা শুরু হয়েছিল ১৩৪ বছর আগে। হিন্দু  ও মুসলমানদের