© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সংসার সামলেও প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডার ঢাবির পুনম!

শেয়ার করুন:
সংসার সামলেও প্রথম বিসিএসেই পররাষ্ট্র ক্যাডার ঢাবির পুনম!
central-desk
০১:৪১ পিএম | ০৩ জুন, ২০২০

শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশ করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি জিপিএ-৫

হুমাইরা চৌধুরী পুনম। শেরপুরের এই ছাত্রী ক্লাসে সবসময় ফার্স্টগার্ল থাকতেন। শেরপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পাশ করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পরে ভর্তি হন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। উদ্ভিদ বিজ্ঞানে অনার্সে তিনি ৩.৬৫ ও ৩.৬৫ সিজিপিএ নিয়ে পাশ করেছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধূলা ও সাংষ্কৃতিক কর্মকান্ডেও অংশগ্রহণ করতেন সমান তালে। ভলিবল, হ্যান্ডবল, থ্রোয়িং, রচনা ও উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রয়েছে তার অসংখ্য পুরুষ্কার, পেয়েছেন ৫০টিরও অধিক সার্টিফিকেট ও বই। এতকিছু সামাল দিয়ে অল্প পড়াশোনা করেও তিনি ভালো ফলাফল করতেন। একারণে সহপাঠি শিক্ষকরা তাকে বলতেন ‘গড গিফটেড ব্রেইন’।

পড়াশোনা অবস্থাতেই বিয়ে হয়ে যায় পুনমের। তবুও থেমে যানি তিনি। পরিকল্পনা মাফিক অল্প পড়াশোনা করে তিনি সফলতা দেখিয়েছেন। প্রথমবার বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে পরররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। স্বামী, সন্তান পরিবার সামলে পুনম ওই সাফল্য দেখিয়েছেন। তিনি ৩৬তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে দশম হয়েছিলেন।

জানা গেছে, অনার্স পরীক্ষা শেষ হবার সাথে সাথেই বিয়ে হয়ে যায় পুনমের। বিয়ের পর স্বামী ও সংসার এর দায়িত্বে পড়াশোনা বাদ না দিয়ে বরং স্বামী মো. সফিক মজুমদার সুমনের উৎসাহ ও দিক নির্দেশনায় পড়াশোনায় আরো বেশি মনোযোগী হন। এরপর মাস্টার্সে রেজাল্টের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েই বিসিএসের প্রস্ততি নেয়া শুরু করেন।

পুনম জানালেন, পরীক্ষার সময় তাকে তেমন একটা কাজ করতে দেয়া হত না। তার স্বামী প্রতিদিন অফিসে যাওয়র সময় পড়া দিয়ে যেতেন এবং অফিস থেকে এসে আবার সারাদিনের পড়া ধরতেন। এভাবে প্রিলি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দ্বিগুণ উদ্যমে লিখিত পরীক্ষার প্রস্ততি নেয়া শুরু করেন। বিভিন্ন সিরিজের বই এর পাশাপাশি নিয়মিত পত্রিকা পড়তেন ও খবর শুনতেন। প্রচুর মডেল টেস্ট দিয়ে জ্বালিয়ে নিতেন নিজের প্রস্ততি। এভাবে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্ততি নিয়ে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। লিখিত প্রতিটি পরীক্ষাই তার আশানুরুপ হয়। এরপর ভাইবার জন্যও পড়াশোনা করেন টুকিটাকি। পূর্ণাঙ্গ ফলাফল বের হলে পররষ্ট্র ক্যাডারে ১০ম হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

জানা গেছে, পরিবারে তিন ভাইবোনের মধ্যে ‍পুনম সবার বড়। ছোটবেলা থেকে এইচএসসি পর্যন্ত তিনি তার মায়ের তত্ত্বাবধায়নে পড়াশোনা করেন। বাবা আওলাদ হোসাইন চৌধুরী, মোটর পার্টস ব্যবসায়ী। মা মোর্শেদা নাসরীন গৃহিণী। মাই তাকে সবসময় স্বপ্ন দেখাতেন জীবনে অনেক বড় হতে হবে। বাবা-মায়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন পূনম।

টাইমস/জেকে

মন্তব্য করুন