আবরারকে নিয়ে কলকাতার তনুশ্রীর পোস্ট ভাইরাল

আবরার ফাহাদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) ছাত্র ছিলেন। তিনি থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের নিচতলায় ১০১১ নম্বর কক্ষে। সম্প্রতি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে দেয়া পোস্টের জের ধরে রোববার রাতে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী।

এই ঘটনা বাংলাদেশ এখন তুমুল আলোচিত। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন আবরার হত্যার প্রতিবাদে। ভারত থেকেও অনেকেই এই ঘটনায় সংহতি প্রকাশ করছেন। তাদেরই একজন কলকাতার তনুশ্রী রায়। তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন।

আবরারকে নিয়ে সোমবার রাতে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। অনেক বাংলাদেশিই তার পোস্টে কমেন্ট করেছেন।

তনুশ্রী রায় তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘যদিও আমি ভারতীয় তারপরও বাংলাদেশের প্রতি আমার আলাদা একটা টান রয়েছে। কারণ আমার পূর্বপুরুষ বাংলাদেশেরই মানুষ ছিলেন ৪৭'র দেশভাগের পর ভারতে চলে আসেন। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকুক এটা আমি সবসময় চাই।’

‘শুনলাম ভারত-বাংলাদেশের চুক্তি নিয়ে স্ট্যাটাস দেয়ায় একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। স্ট্যাটাসটা আমি পড়লাম, নিজের দেশের স্বার্থ নিয়ে লিখার জন্য কিভাবে নিজের দেশেরই লোক একটা ছেলেকে এভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ফেলে এটা আমার কাছে আশ্চর্য লাগছে।সামান্য ফেসবুক স্ট্যাটাসের কারণে মানুষ খুন করে ফেলা হচ্ছে বাংলাদেশে। কিভাবে এমন একটা দেশে মানুষ বাস করে!’

তনুশ্রীর পোস্টে বিভিন্ন জনের মন্তব্য

আরএন শাওন এ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘ভুল দেশে জন্ম আমাদের যেখানে বাক স্বাধীনতা নেই। আপনারা বেঁচে গেছেন এ দেশ ত্যাগ করে।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘জন্মদান থেকে বুয়েট পর্যন্ত! চিন্তায় কত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছে মা, ছেঁড়া শার্ট আর পুরনো স্যান্ডেলের আড়ালে জমিয়ে রাখা বাবার কত স্বপ্ন। এবার নিশ্চিন্তে ঘুমাও মা, কেড়ে নেয়ার মত কিছুই নেই যে তোমার আর। আজ একটি পিতা অকারণে নিজের কাঁধে বইছেন পুত্রের মৃত লাশ। আজ একটি মা সন্তান হারানোর হাহাকারে বিক্ষত। আমরা আবরারের মৃত্যুর দুর্বল সাক্ষী!’

মো. ফয়সাল আহমেদ নামে একজন মন্তব্য করেছেন, ‘সাগর-রুনি, বিশ্বজিৎ, নুসরাত- কারো হত্যার বিচারই এ দেশে হয়নি। হয়তো আবরার হত্যার বিচারও আমরা পাব না। ফলস্বরূপ একসময় আমাকে এবং আরো অনেককেই এভাবে হত্যার শিকার হতে হবে। আর খুনিরা তাদের আধিপত্য বজায় রাখবে। প্রতিষ্ঠিত হবে স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ।’

 

টাইমস/এসআই

 

Share this news on:

সর্বশেষ

img
পদত্যাগ করে জামায়াতে যোগ দিলেন ছাত্রদল নেতা Jan 30, 2026
ছেলের জন্য পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইমরান হাশমি Jan 30, 2026
বাসা থেকে বের হওয়ার আগে এই ৩টি কাজ করুন | ইসলামিক টিপস Jan 30, 2026
img
প্রসেনজিৎ ও দেব এক ফ্রেমে, বৈঠকের বিতর্কের অবসান নাকি সৌজন্য সাক্ষাৎ? Jan 30, 2026
img
ভোট দিয়ে প্রমাণ করুন বগুড়ার মাটি বিএনপির ঘাঁটি: তারেক রহমান Jan 30, 2026
img
নিজের হাতকে শাপলা কলি বানালেন জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img
২৩ বছরের ছেলে আরভের প্রেমজীবন নিয়ে দুশ্চিন্তায় টুইংকেল খান্না! Jan 30, 2026
img
জনগণের ভোটই সব ষড়যন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকবে: ড. এম এ কাইয়ুম Jan 30, 2026
img
প্রেক্ষাগৃহে নতুন ভার্সনে মুক্তি পাচ্ছে ‘ইয়ে দিল আশিকানা’ Jan 30, 2026
img
ট্রাম্পের কারণে পেশাগত স্বাধীনতা নেই, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান অভিনেত্রী Jan 30, 2026
img
নির্বাচিত হলে পুরনো কাসুন্দি নিয়ে কামড়াকামড়ি করব না: জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন: নাহিদ ইসলাম Jan 30, 2026
img
নোয়াখালী যেন গরিবের বউ, সবার ভাবি: হান্নান মাসউদ Jan 30, 2026
img
নির্মাণে মনোযোগী ভারতীয় গায়ক অরিজিৎ সিং Jan 30, 2026
img
বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন মাহবুব মাস্টার Jan 30, 2026
img
‘ধুরন্ধর ২’র স্বত্ব কিনেছে নেটফ্লিক্স! Jan 30, 2026
img
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ প্লে-অফে আবারও দেখা হচ্ছে রিয়াল-বেনফিকা, পিএসজির সামনে মোনাকো Jan 30, 2026
img
নির্বাচন ঘিরে দলীয় সিদ্ধান্ত মানছেন না নেতাকর্মীরা, ১৫ দিনে বহিষ্কার ৩৯ Jan 30, 2026
img
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান Jan 30, 2026
img
নির্বাচিত হলে জাতিকে বিভক্ত হতে দেবো না: শফিকুর রহমান Jan 30, 2026