‘পানির মধ্যে মা-বোনকে খুঁজেছি, ওদের ছাড়াই বেঁচে ফিরেছি’

মুন্সিগঞ্জের যুবক সাইফুল ইসলাম রিফাত। মা ও বোনকে নিয়ে থাকেন পুরান ঢাকায়। বাবা থাকেন মালয়শিয়ায়। সোমবার বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে সেই প্রাণপ্রিয় মা ও ছোট বোনকে হারিয়েছেন রিফাত। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে আর্তনাদ করে রিফাত বলছিলেন, ‘মুক্তা, আমিও তো তোদের সঙ্গেই ছিলাম। মাকে নিয়ে তুই চলে গেলি বোন! তোকে আমি কত ভালোবাসি জানিস না! পানির মধ্যে আমি অনেক খুঁজেছি তোকে, মাকে। পাইনি। চোখের নিমেষেই তোরা ডুবে মারা গেলি, আমি কেন বেঁচে ফিরলাম!’

জানা গেছে, রিফাত পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি অনলাইন শপিংয়ে ডেলিভারিম্যান হিসেবে চাকরি করেন। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের মিল্ক্কিপাড়ায়। কর্মস্থল থেকে তিন দিন ছুটি নিয়ে সর্বশেষ গত শুক্রবার গ্রামের বাড়ি গিয়েছিলেন রিফাত। সঙ্গে ছিলেন মা ও বোন। ছুটি শেষে গতকাল সোমবার চাকরিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রিফাতের। তাই সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ কাঠপট্টি থেকে ‘মর্নিং বার্ড’ লঞ্চে ওঠেন মা ও বোনকে নিয়ে। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু ইরফান। মাঝপথে এসে ইরফান দোতলা লঞ্চের ছাদে উঠে যান। মা-বোনের সঙ্গে দোতলায় পাশাপাশি বসেছিলেন রিফাত। সারাপথ বোনের সঙ্গে খুনসুটি করতে করতে আসেন তিনি। সদরঘাটের কাছাকাছি এসে চোখের নিমেষেই তাদের বহনকারী লঞ্চটি ডুবে যায়। রিফাত ও তার বন্ধু ইরফান ভাগ্যক্রমে জীবন বাঁচাতে পেরেছেন। রিফাতের ডান পায়ের হাঁটু কেটে গেছে ডুবন্ত লঞ্চ থেকে বের হওয়ার সময়।

উদ্ধারকারী দল রিফাতকে পুরান ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মর্গে ছুটে যান তিনি। কীভাবে বেঁচে গেলেন, সে সম্পর্কে রিফাত আহমেদ বলেন, ‘আমরা তো কল্পনাও করিনি যে সদরঘাটে আমাদের লঞ্চকে অন্য আরেকটা লঞ্চ ধাক্কা দেবে। আমি, আমার মা আর বোন লঞ্চের ভেতরে ছিলাম। আর আমার বন্ধু ছিল ছাদে। মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে আমাদের লঞ্চ ছাড়ে ৮টার কিছু আগে। লঞ্চের ভেতর আমার হালকা ঘুম চলে এসেছিল। তবে সদরঘাটের কাছাকাছি আসায় আম্মু আমাকে জাগিয়ে তোলেন। আমরা সদরঘাটের একেবারই কাছাকাছি চলে আসি। তখন বড় একটা লঞ্চ আমাদের লঞ্চকে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে উল্টে যায়। আমি, আমার মা আর বোন পানির নিচে তলিয়ে যাই। মা আর বোন পানির নিচে কোথায় হারিয়ে গেল জানি না। পানির নিচে আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। কয়েক ঢোক পানিও খেয়েছি। কিন্তু কীভাবে যেন উপরে ভেসে উঠি। তখন আমার জ্ঞান ছিল না। লোকজন ধরাধরি করে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। আমি বেঁচে যাই।’

 

টাইমস/জেকে

Share this news on:

সর্বশেষ

img
বিএনপিই পারে দেশকে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে: তারেক রহমান Jan 30, 2026
img
আমরা পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি আর দেখতে চাই না: জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img
কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোকে নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের Jan 30, 2026
img
মাদকমুক্ত বরিশাল উপহার দিবো: ফয়জুল করীম Jan 30, 2026
img
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির ফোনালাপ Jan 30, 2026
img
নিপাহ ভাইরাসে বিশ্বকাপ আয়োজনে অনিশ্চয়তা নিয়ে মুখ খুলল বিসিসিআই Jan 30, 2026
img
একটি দল টাকা দিয়ে ভোট কিনছে : সেলিমা রহমান Jan 30, 2026
img
গাজীপুরে নির্বাচনি এলাকায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন Jan 30, 2026
img
বিপিসির চেয়ারম্যান পদ থেকে ওএসডি, জ্বালানি খাতে নানা আলোচনা Jan 30, 2026
img
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই আমাদের অগ্রাধিকার: তারেক রহমান Jan 30, 2026
img
১৩ তারিখ নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য মুখিয়ে আছে ১৮ কোটি মানুষ : জামায়াত আমির Jan 30, 2026
img

প্রার্থীর বক্তব্য ভাইরাল

‘তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে আ’লীগকে রাজনীতির সুযোগ দেবেন’ Jan 30, 2026
img
সিলেটের ওসমানী হাসপাতালে আগুন Jan 30, 2026
img
লন্ডনে বাউল উৎসব মাতালেন কণ্ঠশিল্পী শারমিন দিপু Jan 30, 2026
img
নিরাপত্তাজনিত হুমকির কারণে প্রচারণায় বিরতি নিচ্ছেন মেঘনা আলম Jan 30, 2026
img
জামায়াত কখনোই বিএনপির সমান্তরাল কোনো রাজনৈতিক দল নয়: আবদুস সালাম Jan 30, 2026
img
মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিভাগের বিশেষ অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ আটক ২১৮ Jan 30, 2026
img
আবহাওয়া নিয়ে আবারও নতুন বার্তা, কমতে পারে তাপমাত্রা Jan 30, 2026
img
ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দিলেন ট্রাম্প Jan 30, 2026
img
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে অধ্যক্ষসহ ৪ শিক্ষককে শোকজ Jan 30, 2026