ঐতিহ্যবাহী পুঠিয়া রাজবাড়ি

প্রাচীন ঐতিহ্য আর সবুজে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ। এদেশে রয়েছে মনোমুগ্ধকর অনেক স্থাপনা। তেমনই একটি মনোরম স্থান রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি। মহারানী হেমন্ত কুমারীর এই বাসভবন পাঁচআনি জমিদারবাড়ি নামেও পরিচিত।

রাজশাহী জেলা সদর হতে ৩২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নাটোর মহাসড়ক অভিমুখে পুঠিয়া অবস্থিত। পুঠিয়া রাজবাড়ি বা পাঁচআনি জমিদারবাড়ি হচ্ছে মহারানী হেমন্তকুমারী দেবীর বাসভবন। বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের মধ্যে রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ি অন্যতম। বর্তমানে এই রাজবাড়িটি লস্করপুর ডিগ্রী কলেজ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সপ্তদশ শতকে মোগল আমলে তৎকালীন বাংলার বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে পুঠিয়া জমিদারি ছিল প্রাচীনতম। কথিত যে জনৈক নীলাম্বর মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে ‘রাজা’ উপাধি লাভ করার পর সেটি পুঠিয়া রাজবাড়িরূপে পরিচিতি লাভ করে। ১৭৪৪ সালে জমিদারি ভাগ হয়। সেই ভাগাভাগিতে জমিদারের বড় ছেলে পান সম্পত্তির সাড়ে পাঁচ আনা এবং অন্য তিন ছেলে পান সাড়ে তিন আনা। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা ছিল। প্রথা বিলুপ্ত হলে পুঠিয়া রাজবাড়ীর জমিদারিও বিলুপ্ত হয়। কিন্তু জমিদারি বিলুপ্ত হলেও সে আমলে নির্মিত তাদের প্রাসাদ, মন্দির ও অন্যান্য স্থাপনা ঠিকই এখনো টিকে রয়েছে। অপরূপ এ প্রাসাদটি ১৮৯৫ সালে মহারানী হেমন্ত কুমারী দেবী তার শাশুড়ি মহারানী শরৎ সুন্দরী দেবীর সম্মানে নির্মাণ করান।

পুঠিয়া বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে দ্বিতল বিশিষ্ট আয়তাকার পরিকল্পনায় নির্মিত পুঠিয়া রাজবাড়িটি একটি আকর্ষণীয় ইমারত। জমিদার বা রাজারা এখান থেকে তাদের রাজকর্ম পরিচালনা করতেন। ভবনের সম্মুখ ভাগের স্তম্ভ, অলংকরণ, কাঠের কাজ, কক্ষের দেয়ালে ও দরজার উপর ফুল ও লতাপাতার চিত্রকর্ম চমৎকার নির্মাণ শৈলীর পরিচয় বহন করে। রাজবাড়ীর ছাদ সমতল, ছাদে লোহার বীম, কাঠের বর্গা এবং টালি ব্যবহৃত হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য রাজবাড়ির চারপাশে পরিখা খনন করা হয়েছিল।

রাজবাড়ীর আশে পাশে ছয়টি রাজদিঘী আছে। প্রত্যেকটা দিঘীর আয়তন ছয় একর করে। মন্দিরও আছে ছয়টি। সবচেয়ে বড় শিব মন্দির। এ ছাড়া আছে রাধাগোবিন্দ মন্দির, গোপাল মন্দির, গোবিন্দ মন্দির, দোলমঞ্চ ইত্যাদি। প্রতিটি মন্দিরের দেয়ালেই অপূর্ব সব পোড়ামাটির ফলকের কারুকাজ। জোড়বাংলা মন্দির, বাংলো মন্দির, পঞ্চরত্ন অর্থাৎ চূড়াবিশিষ্ট মন্দির অর্থাৎ বাংলার বিভিন্ন গড়নরীতির মন্দিরগুলোর প্রতিটিই আকর্ষণীয়। এ ছাড়া রানির স্নানের ঘাট, অন্দর মহল মিলিয়ে বিশাল রাজবাড়ি প্রাঙ্গণ।

যাওয়া উপায়:

ঢাকা থেকে রাজশাহী: ঢাকা থেকে সড়ক, রেল ও আকাশ পথে রাজশাহী যাওয়া যায়। সড়কপথে ঢাকার গাবতলি ও কল্যাণপুর থেকে বাসে উঠতে হবে। এজন্য গ্রিন লাইন, দেশ ট্রাভেলস, শ্যামলী ও হানিফসহ বেশ কয়েকটি বাস সার্ভিস রয়েছে। শ্রেণিভেদে ভাড়া পড়বে ৪শত থেকে ১ হাজার টাকা।

রেলপথে যাওয়ার জন্য রয়েছে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ও পদ্মা এক্সপ্রেস নামে দুটি ট্রেন। রোববার ব্যতীত প্রতিদিন দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস এবং মঙ্গলবার ব্যতীত প্রতিদিন রাত ১১টা ১০ মিনিটে কমলাপুর থেকে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ভাড়া শ্রেণিভেদে ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৮১ টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া আকাশ পথে ঢাকার শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ার ও ইউএস-বাংলা এয়ারের বিমানে রাজশাহী যাওয়া যায়।

রাজশাহী থেকে পুঠিয়া: পুঠিয়ার দূরত্ব রাজশাহী থেকে ৩৪ কিলোমিটার এবং নাটোর থেকে ১৮ কিলোমিটার। রাজশাহী থেকে নাটোর গামী বাসে চড়ে বা লোকাল বাসে করে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ডে মেনে ৫ থেকে ১০ মিনিট হাটলেই পুঠিয়া রাজবাড়ি।

কোথায় থাকবেন:

থাকার জন্য রাজশাহী ও পুঠিয়া বেশ কিছু আবাসিক ব্যবস্থা রয়েছে। পুঠিয়াতে জেলা পরিষদের দুইটি ডাকবাংলো আছে যেখানে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে থাকা যাবে। তবে আসার পূর্বেই ডাকবাংলোতে কক্ষ বরাদ্দ নিতে হবে জেলা পরিষদ থেকে। এছাড়া পুঠিয়া বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি বেসরকারি আবাসিক হোটেল রয়েছে।

এছাড়া রাজশাহীতে থাকার জন্য রয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন মোটেল (০৭২১-৭৭৫২৩৭), হোটল হক্স ইন (০৭২১-৮১০৪২০), নাইস ইন্টারন্যাশনাল(০৭২১-৭৭৬১৮৮), মুক্তা ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৭৭১১০০), ডালাস ইন্টারন্যাশনাল (০৭২১-৮১১৪৭০)।

 

টাইমস/এসআর/এইচইউ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে: শহিদুল ইসলাম Jan 30, 2026
img
ইনস্টাগ্রাম থেকে হঠাৎ উধাও কোহলি! Jan 30, 2026
img
আশা করি ইরানে হামলা চালাতে হবে না: ট্রাম্প Jan 30, 2026
img
বিশ্বের দূষিত শহরের শীর্ষে লাহোর, ২য় অবস্থানে রাজধানী ঢাকা Jan 30, 2026
img
নোয়াখালীতে জামায়াত আমীরের জনসভায় নেতাকর্মীদের ঢল Jan 30, 2026
img
বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়ে ভারতের ম্যাচ বর্জনের চিন্তায় পাকিস্তান Jan 30, 2026
img
আজ ইশতেহার ঘোষণা করবে এনসিপি Jan 30, 2026
img
নাইজারের বিমানবন্দরের কাছে গোলাগুলি, নিহত ২০ Jan 30, 2026
img
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠক Jan 30, 2026
img
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ Jan 30, 2026
img
৫০তম বিসিএস পরীক্ষা শুরু Jan 30, 2026
img
অক্ষয় নিয়ে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ প্রযোজক শৈলেন্দ্রের Jan 30, 2026
img
চাঁদপুর-৩ আসনে ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীকে গণঅধিকার পরিষদের সমর্থন Jan 30, 2026
img
মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ২১৮ অভিবাসী আটক Jan 30, 2026
img
সন্ত্রাসীদের পক্ষে দাঁড়ালে ১৭ বছরের নিপীড়নের গল্পকে ভুয়া ধরব : আসিফ মাহমুদ Jan 30, 2026
img
নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় রেকর্ড সংখ্যক বিজিবি মোতায়েন Jan 30, 2026
img
দামী গাড়ি ছেড়ে এখন ট্যাক্সিতে উঠেছেন গোবিন্দ! Jan 30, 2026
img

পঞ্চগড়-১ আসন

পক্ষপাতের অভিযোগ, রিটার্নিং কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবি Jan 30, 2026
img
রণবীর সরে যাওয়ার পর ‘ডন ৩’-এর হিরো কী তবে শাহরুখ? Jan 30, 2026
img
ফেনীতে জামায়াতের সমাবেশ শুরু, যোগ দেবেন ডা. শফিকুর রহমান Jan 30, 2026