© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

পিতৃপরিচয় ছাড়াই যেভাবে স্টাইল আইকনে পরিণত হন রেখা!

শেয়ার করুন:
পিতৃপরিচয় ছাড়াই যেভাবে স্টাইল আইকনে পরিণত হন রেখা!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২১ পিএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৫
সিনেমার চেয়েও নাটকীয় আর রহস্যে ভরা জীবনের ৭১ বসন্ত পার করলেন বলিউডের 'চিরসবুজ' অভিনেত্রী রেখা। আজ রেখার শুভ জন্মদিন। দেখতে দেখতে ৭২ বছরে পা রাখলেন লাস্যময়ী এ তারকা।

রেখার জন্ম ১৯৫৪ সালের ১০ অক্টোবর। পারিবারিক নাম ভানুরেখা গণেশন হলেও সিনেমাজগতে তিনি পরিচিত পান রেখা নামেই। অভিনেতা জেমিনি গণেশন ও অভিনেত্রী পুষ্পভল্লির ঘরে জন্ম নেন রেখা। বাবা নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি না দিলেও নিজের নাম থেকে মুছে ফেলেন বাবার পদবি। সমাজের প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়ে রেখা এগিয়ে যান ছকভাঙা চিন্তাধারা নিয়ে।

১৯৬৬ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। সত্তর দশকে ‘অপারেশন জ্যাকপট নাল্লি সিআইডি ৯৯৯’ নামের কন্নড় সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করে সিনেমা জগতে পা রাখেন তিনি।

শোবিজে পা রাখার প্রথমদিকে চিরসবুজ আবেদনময়ী রেখাকে শুনতে হয় ডার্ক স্কিন, খর্ব দেহভঙ্গির মতো নানা কটুক্তি। এমন সমালোচনায় থেমে যাননি তিনি। ১৯৭০ সালে বলিউড সিনেমা ‘আনজানা সফর’–এ সুযোগ মেলার পর ভাগ্য বদলে যায় রেখার।



রেখার প্রথম বাণিজ্যিক সফল সিনেমা ‘সাওয়ান ভাদো’। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রেখাকে। ‘কাহানি কিসমত কি’, ‘সিলসিলা’, ‘উমরাও জান’এর মতো একের পর এক ধামাকা সিনেমা দিয়ে দর্শকের মনে রাজত্ব শুরু করেন অভিনেত্রী। নানা চড়াই-উতড়াই পেরিয়ে হয়ে ওঠেন নায়িকাদের নায়িকা।

রূপ, গ্ল্যামার আর অসামান্য অভিনয়ের এক অদ্ভুত মিশেলে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান অভিনেত্রী। টানা চোখের ইশারায় ঠোঁটের ওপর ছোট্ট তিলে কাড়েন কোটি ভক্তের হৃদয়। তবে সিনেমা জগতের জীবন ঝলমলে আলোয় পরিপূর্ণ হলেও ব্যক্তি জীবনের পুরোটাই রেখার বেদনার সুর।

রেখার ব্যক্তিজীবনে পিতৃপরিচয়ের জটিলতার পর তিনি বিতর্কিত হন নিজের জীবন নিয়েও। বলিউড মেগাস্টার বিবাহিত অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে নায়িকার প্রেম পরিণত হয় 'টক অব দ্য টাউন'-এ। অভিনেতা বিনোদ মেহরার সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কে নাম জড়ায় অভিনেত্রীর।

রেখা তার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জনের ইতি টানেন ১৯৯০ সালে বিয়ের মধ্য দিয়ে। দিল্লির বিশিষ্ট শিল্পপতি মুকেশ আগারওয়ালকে বিয়ে করার পর তিনি জড়ান নতুন বিতর্কে। কারণ অনেক রহস্যের জন্ম দিয়ে রেখাকে বিয়ের এক বছরের মাথায় রেখার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুকেশ।

মিডিয়ায় মুকেশের মৃত্যু নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়। গুঞ্জন ওঠে ব্যক্তিগত নারী ম্যানেজারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে থাকার কারণে মুকেশ আত্মহত্যা করেন। জল আরও ঘোলা ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে বিধবা রেখার সিঁথির সিঁদুর। এখনও রেখাকে দেখা যায় স্বামী মুকেশের মৃত্যুর পরও সিঁদুর পরতে। গ্ল্যামার কুইন তবে কার নামে সিঁথি রাঙান? বলি পাড়ায় তা আজও রহস্য।

তবে এসব ব্যক্তিগত জটিলতাকে পেছনে ফেলে কাজ দিয়ে আজও ভক্তদের মনে রাজত্ব করছেন রেখা। দেশ-বিদেশের নামিদামি ম্যাগাজিনে হয়েছেন প্রচ্ছদকন্যা। স্টাইলের জগতে তৈরি করেছেন নিত্য নতুন ফ্যাশন। পর্দায় নাচের এক একটি মুদ্রা দিয়ে জীবনের রূঢ়-বাস্তবতাকে পেছনে ফেলে নিখাদ বেঁচে থাকার গল্পটাকে রেখা ভরিয়ে তুলেছেন নানা গৌরবময় ইতিহাস আর সম্মাননায়।

উপহাসকে অতিক্রম করে স্টাইল আইকনে পরিণত হওয়া রেখার ক্যারিয়ার যাত্রা ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং শিল্পের প্রতি অনন্য প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার অবদান এখন অনন্য উচ্চতায়।

কেএন/টিকে

মন্তব্য করুন