© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মানবাধিকার কমিশন ঘুমাচ্ছে: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

শেয়ার করুন:
মানবাধিকার কমিশন ঘুমাচ্ছে: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
own-reporter
০৬:৪৯ পিএম | ১১ নভেম্বর, ২০১৯

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এজন্য তারা একটা পর্যবেক্ষণও দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ‘আইনের অধীনে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার পরও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ঘুমাচ্ছে।’

সোমবার (১১ নভেম্বর) মিরপুরের গৃহকর্মী খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা রিটের রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ দেন।

মানবাধিকার সংগঠন ‘চিলড্রেন চ্যারিটি অব বাংলাদেশ’-এর দায়ের করা রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম। অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান তাকে সহযোগিতা করেন।

হাইকোর্ট বলেন, কোনও মানুষ যদি ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা যায়। কিন্তু একজন মানুষ জেগে ঘুমালে, তাকে ডেকে তোলা যায় না।’ আদালত আরও বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনকে মনে রাখতে হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে কমিশন যখন হস্তক্ষেপ করে বা শুনানি গ্রহণ করে, তখন কমিশন আধা বিচারিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। তাই তাদের ন্যায়বিচার ও আইনের বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে।’

পর্যবেক্ষণ ছাড়াও এ মামলার রায়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতি কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্দেশনাগুলো হলো—‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন যে খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে, তা সুশীল সমাজের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।’

নির্দেশনায় আদালত বলেন, ‘কমিশনকে আইনের ১৬ ধারা অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ধারা অনুসারে কমিশন দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে এবং তদন্ত বা অনুসন্ধানের স্বার্থে সাক্ষী তলব, নথি তলব বা জামিনযোগ্য পরোয়ানা ইস্যু করতে পারে।’ আদালত আরও বলেন, ‘যদি কমিশনের কোনও সুপারিশ সরকার মান্য না করে তাহলে সংশ্লিষ্ট কমিশন আইনের ১৯ ধারা এবং সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে হাইকোর্টের নজরে আনতে হবে।’

হাইকোর্টের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘কমিশন থেকে যেসব আদেশ দেওয়া হয় সেসব আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি ৩০ দিনের মধ্যে ইস্যু করতে বলা হয়েছে। এমন মানবাধিকার কমিশনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে তাদের পদ্ধতিগুলো নির্ধারণ করে নিতে হবে।’

আদালত বলেন, ‘কমিশনে কোনও অভিযোগ আসার পর তা যেন একজন ব্যক্তির স্বাক্ষরে নিষ্পত্তি বা আদেশ দেওয়া না হয়। কমিশন আইনের ১১(৩) বা ২৮ ধারার নিয়ম অনুসারে যথাযথ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদেশ প্রদানকারীদের নাম ও পরিচয় লিখতে হবে।’

গৃহকর্মী খাদিজার বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনকে ৬০ দিনের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে আদালত বলেন, ‘এ সময় খাদিজা ও পরিবারের বক্তব্য শুনে খাদিজার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে কমিশনের ১৯ ধারা অনুসারে অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে সুপারিশ করতে হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মানবাধিকার সংগঠন ‘চিলড্রেন চ্যারিটি ফাউন্ডেশন’-এর পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে চিঠি দেওয়া হয়। এরপর পাঁচ বছর কেটে গেলেও কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০১৮ সালের ২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়।

ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৯ জানুয়ারি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় যথাযথ পদক্ষেপ নিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এছাড়া খাদিজাকে নির্যাতনের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়। যার ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন পর মামলাটির রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন।

 

টাইমস/এমএস 

মন্তব্য করুন