পুলিশের লাঠিচার্জে সংসদ ভবন ছাড়লেন জুলাই যোদ্ধারা

প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থানের পর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থল থেকে বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধাদের লাঠিচার্জ করে বের করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধারা। সনদে অবমূল্যায়ন, স্বীকৃতি না দেয়া এবং আইনি ভিত্তি না থাকার অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। পরে ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ঘটনাস্থলে এসে জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সনদের অঙ্গীকারনামা সংস্কারের ঘোষণা দেন।

এদিকে, বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

উত্তপ্ত সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। জুলাই সনদ সইয়ের আনুষ্ঠানিকতার মঞ্চের সামনে থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে জুলাই যোদ্ধাদের। পুলিশের অ্যাকশনে শুরু হয় উত্তেজনা। চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। ইটপাটকেল নিক্ষেপ। ছোড়া হয় টিয়ারশেল। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হন বেশ কয়েকজন।

এর আগে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা। রাত থেকে অবস্থান করা বিক্ষুব্ধ জুলাই যোদ্ধারা প্রবেশ করার চেষ্টা করেন সংসদ ভবনে। অনেকেই নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে গ্রিলের ওপর দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে মূল ফটক উন্মুক্ত করে দেন দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

৫ শতাধিক বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারী মূল মঞ্চ এবং অতিথিদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে পড়েন। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, সনদ প্রণয়নে তাদের পরামর্শ নেয়নি সরকার। একইসঙ্গে স্বীকৃতি না দিয়ে করা হয়েছে অবমূল্যায়ন। ঘোষণাপত্রের মতো এখানেও আইনি ভিত্তি না থাকার অভিযোগ তাদের।

আন্দোলনকারীরা তাদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিকে মঞ্চে জায়গা দেয়ার দাবি জানান।

দুপুর একটার কিছু আগে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত হন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ সভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরা। হত্যার বিচার, জুলাই যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সম্মান, আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আশ্বস্ত করেন ড. আলী রীয়াজ।

তবে আলী রীয়াজের বক্তব্যেও আশ্বস্ত হতে পারেননি জুলাই যোদ্ধারা। এরপরই শুরু হয় পুলিশি অ্যাকশন।

বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের। উপস্থিত থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে, জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সব দলের থাকা নিয়ে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

কেএন/এসএন

Share this news on:

সর্বশেষ

img
সংবিধান বিকৃতি রোধে আমরা চাই একটি স্থায়ী পরিবর্তন: পার্বত্য উপদেষ্টা Jan 17, 2026
img
গরম খাবার লেবু দিয়ে খেলে কী হয়? Jan 17, 2026
img
আজ জরুরি বৈঠকে বসবে জামায়াত Jan 17, 2026
img
আজ আংশিক মেঘলা থাকবে ঢাকার আকাশ, তাপমাত্রা কত? Jan 17, 2026
img
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুপুরে ভারতের বিপক্ষে লড়বে বাংলাদেশ Jan 17, 2026
img
বদলি হিসেবে ভারতীয় দলে ডাক পেলেন শ্রেয়াস আইয়ার ও রবি বিষ্ণোয়ী Jan 17, 2026
img
প্রভাস, রণবীর ও আল্লু অর্জুনের সাথে সন্দীপ রেড্ডির ব্লকবাস্টার প্ল্যান Jan 17, 2026
img
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী রুহুল আমিনকে শোকজ Jan 17, 2026
img
চিনির বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়া কী ভালো? Jan 17, 2026
img
১৭ জানুয়ারি: ইতিহাসে এই দিনে আলোচিত যত ঘটনা Jan 17, 2026
img
খালেদা জিয়ার রাজনীতির লক্ষ্যই ছিল সবার আগে বাংলাদেশ: ফয়সল চৌধুরী Jan 17, 2026
img
ফিটনেস নিয়ে আর ঝুঁকি নেবেন না এমবাপ্পে! Jan 17, 2026
img
জাতীয় দিবসে মুক্তির অপেক্ষায় বিজয়ের ‘জন নয়াগণ’ Jan 17, 2026
img
গরম ভাতে ঘি খাওয়ার উপকারিতা Jan 17, 2026
img
খালেদা জিয়া ছাড়া দেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস পরিপূর্ণ হবে না: বাসুদেব ধর Jan 17, 2026
img
জাবির বিদায়ের পর ভিনিসিউসের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির পথে রিয়াল Jan 17, 2026
img
গমের রুটিতে বদহজম? তালিকায় রাখতে পারেন ৬ বিকল্প Jan 17, 2026
img
নওগাঁ জেলা কমিটি থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণপদত্যাগ Jan 17, 2026
img
নির্বাচিত হলে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো: হাবিব Jan 17, 2026
img
অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে আবার স্বৈরাচার ঘাড়ে চেপে বসবে: রবিন Jan 17, 2026