লক্ষ্মীপুরে পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে হত্যা: পুত্রবধূসহ চার জনের মৃত্যুদণ্ড
লক্ষ্মীপুরে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় শাশুড়ি জাকিয়া বেগমকে হত্যার দায়ে পুত্রবধূ শারমিন আক্তারসহ চারজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শাহেনূর এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জাকিয়ার পুত্র বধূ নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার বসন্তপুর এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তার (২৭), লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার আন্ধার মানিক গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩০), লক্ষ্মীপুর জেলার কালিবৃত্তি থানার চন্দ্রগঞ্জ এলাকার আবুল কালামের ছেলে জামাল হোসেন (২৮) ও চাঁদপুর জেলার বাখরপুর উপজেলার শাহজাহান খানের ছেলে নাজিম উদ্দিন (৩০)। আসামিরা সবাই পলাতক রয়েছেন।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সকল প্রমাণ ও স্বাক্ষ্যগ্রহণে আসামিরা দোষী প্রমাণিত হওয়ার আদালত তাদের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জাকিয়া বেগম সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধর্মপুর গ্রামের প্রবাসী রুহুল আমিনের স্ত্রী। জাকিয়ার ছোট ছেলে আবুল বাশার ঢাকায় ইলেক্ট্রিকের কাজ করেন। বাশারের অনুপস্থিতে তার স্ত্রী শারমিন জামালের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে জাকিয়া পুত্রবধূকে পরকীয়া সম্পর্কটি বিচ্ছিন্ন করতে বলেন। এতে তাদের দুজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
২০১৬ সালের ১৪ জুলাই মধ্যরাতে বাড়ির কলাপসিবল গেট খুলে শারমিন অপর আসামিদের নিজের কক্ষে নিয়ে যান। তাদের কথা শুনে ঘুম থেকে উঠে শারমিনের কক্ষে গেলে জাকিয়া আসামিদের দেখতে পান। এসময় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে জাকিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
পরদিন নিহতের দেবর খোরশেদ আলম বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই আসামি জসিম উদ্দিনকে নতুন তেওয়ারীগঞ্জ গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে আসামিরা জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত শেষে লক্ষ্মীপুর সদর থানার তৎকালীন এসআই মোরশেদ আলম ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দিলে এ মামলার বিচারকাজ শুরু করে আদালত। দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
টাইমস/এইচইউ