মানবতাবিরোধী অপরাধ: রাজশাহীর টিপু সুলতানের রায় বুধবার
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহীর বোয়ালিয়ার আব্দুস সাত্তার ওরফে টিপু রাজাকার ওরফে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল। আর আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট গাজী এম এইচ তামিম।
এর আগে গত ১৭ অক্টোবর উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। মামলায় ছয় জনের বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, আটক, অপহরণ ও লুণ্ঠনের অভিযোগ রয়েছে। তবে, ছয়জনের মধ্যে মজিবর রহমান, আবদুর রশিদ সরকার, মুসা ও আবুল হোসেন আগেই মারা যান। বেঁচে আছেন শুধু টিপু সুলতান।
ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৭ সালের ২ মে টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ এ আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হয়। এরপর গত বছর ২৯ মে প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ৮ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে টিপু সুলতানের বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রাজশাহীর বোয়ালীয়ায় দশ জনকে হত্যা, দুই জনকে দীর্ঘ দিন আটকে রেখে নির্যাতন, ১২ থেকে ১৩টি বাড়ির মালামাল লুট করে আগুন দেওয়ার অপরাধ উঠে এসেছে তদন্তে। এসব অপরাধে আসামির বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষে মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১৪ জন এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন ভিকটিমও আছেন। আমরা যথাযথভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ আদালতে তুলে ধরে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছি।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় টিপু সুলতান জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের পর থেকে রাজনৈতিক কোনও কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে পড়াশোনা করেন। ১৯৮৪ সালে নাটোরের লালপুর উপজেলার গোপালপুর ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালে অবসরে যান।
টাইমস/এইচইউ