গেল শুক্রবার দুপুরে বুকে তীব্র ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে যান ‘একটা চাদর হবে চাদর’ খ্যাত জনপ্রিয় গায়ক জেনস সুমন। কিন্তু আর ফেরা হয়নি তার। এদিন বেলা ১২টার দিকে তার প্রয়াণ ঘটে। এই শিল্পীর মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
অনেকের হয়তো অজানা, এই শিল্পীর পারিবারিক নাম ছিল গালিব আহসান মেহেদি। কিন্তু শ্রোতাদের কাছে তিনি ‘জেনস সুমন’ নামেই পরিচিত।
তবে জানা যায়, এই গায়কের পরিবর্তিত নামটি এসেছে রকস্টার জেমসের থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে। নামটি রেখেছিল তৎকালীন স্বনামধন্য অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সারগাম।
কিন্তু জীবদ্দশায় এই নাম নিয়ে সুমনকে মাঝেমধ্যেই বিতর্কে পড়তে হয়েছে। শ্রোতামহলে জেনস সুমন ও জেমস নিয়ে একটা কানাঘুষা সবসময়ই ছিল।
তাই এই নাম বিতর্ক নিয়ে বহু সাক্ষাৎকারে কথা বলেছিলেন জেনস সুমন। জানিয়েছিলেন, তার প্রথম অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’ মুক্তির সময় তার নাম বদলে যায়। বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও জানতাম না, জেনস সুমন নামে আমার অ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে। আমার নাম গালিব আহসান মেহেদি, ডাক নাম সুমন। সারগামের বাদল ভাই বললেন, তোমার কণ্ঠ জেমসের মতো। তাই জেনস সুমন দিয়েছি।’
তবে অন্য এক সাক্ষাৎকারে জেনস সুমন জানিয়েছিলেন, কোম্পানি তাদের মার্কেটিং সুবিধার জন্য এই কাজ করেছিল। তখন তার বয়সও কম ছিল, তাই নামের রাজনীতির বিষয়টি বুঝতে পারেননি। এরপর ‘১টা চাদর হবে’ অ্যালবামে তার নাম শুধু সুমন ব্যবহার করা হয়; জেনস বাদ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, নব্বই দশকের শেষদিকে পেশাদার শিল্পী হিসেবে সংগীতাঙ্গনে প্রবেশ করেন জেনস সুমন। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম একক অ্যালবাম ‘আশীর্বাদ’। তবে ২০০২ সালে বিটিভির একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে ‘একটা চাদর হবে চাদর’ গানটি প্রচারিত হলে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
পিএ/টিএ