ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ‘লকডাউন’। এ.আর. জীভার পরিচালনায় নির্মিত এই ছবি যেন এক নিঃশব্দ চিৎকার-যেখানে বন্দিদশার চাপ, একাকিত্ব, ভয় এবং মানুষের ভিতরে জমে থাকা অব্যক্ত যন্ত্রণাগুলো ধীরে ধীরে ভেসে ওঠে। পুরো কাহিনির কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন অনুপমা পরমেশ্বরন, যিনি আনিতা চরিত্রে হাজির হয়েছেন আগে দেখা না-দেওয়া এক সংবেদনশীলতায়।
ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যায় বন্ধ দরজার আড়ালে আটকানো এক নারী। তার চোখে আতঙ্ক, শ্বাসে অস্থিরতা, আর চলাফেরায় দমবন্ধ করা অস্বস্তি। কোভিড লকডাউনের কঠিন দিনগুলোর মতোই, আনিতা যেন কোনো অজানা ভেতরের শত্রুর সঙ্গে লড়াই করছেন। আনুপমার চোখের ভাষা, শরীরী প্রকাশ, নিঃশব্দ কান্না-সব মিলিয়ে চরিত্রটি পর্দায় গভীরভাবে ধরা দিয়েছে।
পরিচালক জীভা কাহিনিকে সাজিয়েছেন এক অদ্ভুত আবহে। মিউটেড রঙের ব্যবহার, নীরবতার মাঝে হঠাৎ সঙ্গীতের শিহরণ, অথবা অল্প আলোয় একটি ঘরের দেয়ালে ছায়ার নড়াচড়া-সব মিলিয়ে ট্রেলারেই তৈরি হয়েছে অস্বস্তির এক ঘন পরিবেশ। এই আবহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শক্তিশালী সহ-অভিনেতাদের অভিনয় এবং দক্ষ প্রযুক্তিগত দলের কারিগরি নিপুণতা।
ছবির প্রতিটি দৃশ্য যেন মনে করিয়ে দেয় লকডাউনের সেই দিনগুলোর কথা-যখন মানুষ ঘরে থেকেও নিরাপদ ছিল না, নিজের ভেতরের অস্থিরতা ও দমবন্ধ করা ভাবই হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে বড় শত্রু। ‘লকডাউন’-এর গল্প এই মানসিক দিকটাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
লাইক প্রোডাকশনসের ব্যাকিংয়ে তৈরি এই ছবিটি শুধু থ্রিলার নয়, বরং এক মনস্তাত্ত্বিক যাত্রা। ট্রেলারে দেখা উত্তেজনা, ভয়, আর চরিত্রের নিঃসঙ্গতা দর্শককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। আনুপমার অভিনয়ে যে কাঁচা আবেগ ফুটে উঠেছে, তা ‘লকডাউন’-কে বর্তমান সময়ে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
আসছে ৫ ডিসেম্বর ছবিটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে। থ্রিলারপ্রেমী থেকে শুরু করে ভালো গল্প খোঁজেন এমন দর্শক-সবাইই অপেক্ষায় রয়েছেন ছবিটির জন্য, কারণ ট্রেলারই বুঝিয়ে দিয়েছে, ‘লকডাউন’ বড় পর্দায় এক ভারী অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছে।
আইআর/টিকে