বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সবার সমান মর্যাদা থাকবে। যেখানে সবাই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ লালন করবো। যেখানে আমাদের ধর্ম-বর্ণ-অবস্থান যাই হোক না কেন রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার, সমান মর্যাদা থাকবে।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশই তারেক রহমান প্রতিষ্ঠা করতে চান। আর সেই পথযাত্রায় প্রত্যেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দল একসঙ্গে নেমে আসতে হবে। তার সমর্থনে তার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ইনিশিয়েটিভ ফর পলিসি অ্যান্ড পলিটিক্স (আইপিপি) আয়োজিত ‘তারেক রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা’ শীর্ষক পলিসি ডায়লগে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, আমাদের যদি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয় তাহলে একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তাদের সবাইকে নিয়ে আমরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি শ্রেণির, প্রতিটি পেশার মানুষের জন্য আমরা অবশ্যই সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দেব। সেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না।
‘গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলার শিকার রাজনৈতিক দল বিএনপি’- এমন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই গণ-অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছে যে রাজনৈতিক দল সেটা বিএনপি। এককভাবে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছে যে সংগঠনটি সেটি ছাত্রদল। বাস্তবতা হচ্ছে, এই এত ত্যাগ, এত সংগ্রাম এমন একটি বাংলাদেশের জন্য যেখানে আর কখনো শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শের জন্য কাউকে মানবাধিকার হরণের স্বীকার হতে হবে না।’
মাহদী বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে কেউ জিজ্ঞেস করেনি কে বামপন্থি, কে ডানপন্থি, কে মধ্যপন্থি আর কে ইসলামপন্থি। আমাদের সবার একটাই পরিচয় ছিল আমরা বাংলাদেশপন্থি। সেই বাংলাদেশপন্থি রাজনীতিকে ধারণ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। ইনশা আল্লাহ একটা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনায় আসলে সেই বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো।
পলিসি ডায়লগে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান।
টিজে/টিএ