বিশ্বব্যাংকের নাম ও লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. সোহাগ হোসেন (৩৫)। সেই সঙ্গে ৫টি মোবাইল ফোন, একাধিক বিকাশ ও নগদ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্যসহ মোট ৯টি মোবাইল নম্বর ও অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য জব্দ করা হয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ সব তথ্য জানান।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে বিশ্বব্যাংকের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনে কম সুদে ঋণ প্রদানের প্রতারণামূলক প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছিল একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র। এই চক্রের সদস্য সোহাগকে গত ২৮ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্রের সদস্যরা সাধারণ জনগণের সঙ্গে প্রথমেহোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেদেরকে বিশ্বব্যাংকের ঋণ কর্মসূচির প্রতিনিধি পরিচয় দেয়। তারপর নিজেদেরকে বিশ্ব ব্যাংকের লোন অফিসারসহ এমএসএস ইউনিট, কার্ড ডিভিশন ও হেড অফিসের বিভিন্ন পদবির পরিচয় দিয়ে ২ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। পরে ভিকটিমদের একটি ভুয়া ব্যাংকিং ওয়েবসাইট লিংক লগইন করতে বলে। লগইন করার পর বিভিন্ন চার্জ, ভ্যাট, ইন্সুরেন্স ও প্রক্রিয়াকরণ ফি বাবদ একাধিকবার টাকা পাঠাতে বাধ্য করে।
তিনি আরও বলেন, এভাবেই বিকাশ ও নগদসহ অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৮ টাকা ধাপে ধাপে দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে একজন ভুক্তভোগী। পরে তিনি গত ১০ অক্টোবর ডিএমপির শাহজানপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার পায় সিআইডি। মামলা তদন্ত করে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহাগ সিআইডিকে জানায়, সোহাগ হোসেন একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও ঋণ প্রতারণা চক্রের অংশ। যার মূল হোতা বিদেশে অবস্থান করছে। এই চক্র বিশ্বব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট (আইএফএডি) এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার নাম, লোগো, ওয়েবসাইট ও ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অনলাইনে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। চক্রটির বিদেশে অবস্থানরত মূল হোতার সরাসরি নির্দেশে সোহাগ প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট এবং বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির সিমকার্ড পরিচালনা ও সরবরাহ করতেন। এ ছাড়া, তিনি বাংলাদেশে চক্রটির অবৈধ আর্থিক লেনদেন সমন্বয় করতেন এবং প্রতারণার মাধ্যমে আয় হওয়া অর্থ চক্রটির বিদেশে থাকা সদস্যদের কাছে পাঠাত।
গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
টিজে/এসএন