ঢাকাসহ সারাদেশে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ এবং শীত মৌসুমে ধুলা-ধোঁয়ার চাপ উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছায়। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ময়লা-আবর্জনা, গাছের লতাপাতা, বায়োমাস বা যেকোনো বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২-এর কঠোর বিধানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
এ বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রোববার (৩০ নভেম্বর) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর তার আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকার ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ মোকাবিলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের সভাকক্ষে গত ১ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন বর্জ্য, পাতা, গাছের লতাপাতা, বায়োমাসসহ যেকোনো আবর্জনা খোলা জায়গায় পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২-এর বিধি–১২(ক) অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে বিধি-১৭ অনুযায়ী শাস্তির বিধানও রয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শীতকালে ইট পোড়ানো, নির্মাণকাজের ধূলাবালি, কাঠ-কয়লা পোড়ানো, ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো, ময়লা ও বায়োমাস দাহসহ নানা কারণে বায়ু দূষিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও লতাপাতা ও আবর্জনার সঙ্গে প্লাস্টিক পোড়ানো হচ্ছে, যা বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত ধোঁয়া তৈরি করে। এর ফলে বিভিন্ন বয়সী মানুষ শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে–
১. ময়লা-আবর্জনা, লতাপাতা, বায়োমাস উন্মুক্ত স্থানে পোড়ানো যাবে না।
২. এসব জৈব বর্জ্য গর্তে সংরক্ষণ করে কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
৩. ধূলাবালি ও বর্জ্য পরিষ্কার করে নির্ধারিত সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা পয়েন্টে ফেলতে হবে।
৪. মাঠ–প্রাঙ্গণে নিয়মিত পানি ছিটাতে হবে।
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খোলা জায়গায় ঘাস বা গাছ লাগিয়ে সবুজ আচ্ছাদন বাড়াতে হবে।
৬. কঠিন ও জৈব বর্জ্য উৎসেই পৃথকীকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
৭. শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বায়ুদূষণ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
চিঠিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে নির্দেশনা দিয়ে এসব কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করতে অনুরোধও জানানো হয়েছে।
আরপি/এসএন