ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় রবিবার দুর্নীতিবিরোধী এক বিশাল বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে কয়েক দশ হাজার মানুষ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোতে সরকারি ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে তারা প্রেসিডেন্ট ফের্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের পদত্যাগ দাবি করেন।
‘কিলুসাং বায়ান কনট্রা-কুরাকোট’ বা ‘জনগণের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন’ (কেবিকেকে) আয়োজিত এই সমাবেশ শুরু হয় ম্যানিলার লুনেতা ন্যাশনাল পার্ক থেকে। সেখান থেকে বিক্ষোভকারীরা মিছিল করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে এগিয়ে যান।
অনেক বিক্ষোভকারী মার্কোস ও ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের কুশপুত্তলিকা বহন করেন, যেখানে তাদের কুমির হিসেবে চিত্রিত করে নাম দেওয়া হয় ‘করাপ্ট-কোডাইল’। অন্যরা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ‘মারকোস পদত্যাগ করো’ এবং ‘সব দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে’—এ ধরনের স্লোগান লেখেন।
আয়োজকদের মতে, বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ২০ হাজারেরও বেশি।
এটি ‘ট্রিলিয়ন-পেসো’ কেলেঙ্কারি ঘিরে জনরোষের সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ।
এই কেলেঙ্কারিতে মার্কোসের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ প্রভাবশালী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর চুক্তিতে ঘুষ হিসেবে বিলিয়ন বিলিয়ন পেসো আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এসব প্রকল্পের অনেকগুলোই পরে ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে অথবা আদৌ নির্মাণই হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে আঘাত হানা দুইটি শক্তিশালী টাইফুনে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা জনমনে ক্ষোভ আরো উসকে দিয়েছে।
এই কেলেঙ্কারির জেরে ইতিমধ্যে দুইজন মন্ত্রিসভার সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
মামলার এক আসামি ও সাবেক আইনপ্রণেতা জালদি কো অভিযোগ করেছেন, মার্কোস তাকে বরাদ্দ কমিটির প্রধান থাকার সময় ‘সন্দেহজনক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের’ জন্য বাজেটে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার যোগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট মার্কোস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পিএ/টিএ