আমাদের দৈনন্দিন খাবারের প্লেটে রুটি মানেই বেশিরভাগ সময় গমের আটা। সকালে নাশতা হোক বা রাতে ভাতের বিকল্প গমের রুটি যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, প্রতিদিন একই ধরনের রুটি খাওয়াই কি সবার শরীরের জন্য ভালো? রক্তে শর্করার ওঠানামা, হজমের সমস্যা কিংবা ওজন বাড়ার পেছনে রুটির ধরনও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
পুষ্টিবিদ খুশি ছাবড়া বলছেন, গমের রুটির বাইরে রাগি, বাজরা বা জোয়ারের মতো শস্যে বদল আনলে প্রতিদিনের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
খুশি ছাবড়া জানান, সব রুটি একরকম পুষ্টিগুণ দেয় না। কোন শস্য দিয়ে রুটি বানানো হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে রক্তে শর্করার প্রভাব, হজমক্ষমতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য। সঠিক শস্য বেছে নিতে পারলে স্বাস্থ্য সত্যিই বদলে যেতে পারে। তবে সবার জন্য একই রুটি উপযোগী এমনটা নয়। প্রতিটি শস্যেরই নিজস্ব পুষ্টিগুণ আছে, আবার কিছু সতর্কতার দিকও রয়েছে।
কোন রুটি কী উপকার দেয়
১. রাগি রুটি
রাগি বা নাচনি ওজন কমাতে সহায়ক এবং হাড়ের জন্য দারুণ উপকারী। এতে ক্যালসিয়াম ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি।
তবে যাদের কিডনিতে পাথরের সমস্যা বা থাইরয়েড আছে, তাদের ক্ষেত্রে রাগি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
২. ভুট্টার রুটি
ভুট্টা চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যে সাহায্য করে। এটি প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেনমুক্ত এবং হজমেও তুলনামূলক সহজ। ডায়াবেটিসে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
৩. বাজরা রুটি
বাজরা শরীর গরম রাখে এবং আয়রন ও প্রোটিনে সমৃদ্ধ। শীতকালে এটি বেশ উপকারী। তবে যাদের হজমশক্তি দুর্বল, তাদের রাতে বাজরা রুটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
৪. আটা (গমের) রুটি
সম্পূর্ণ গমের রুটিতে ফাইবার ও বি-কমপ্লেক্স ভিটামিন রয়েছে। কিন্তু আইবিএসবা সিলিয়াক ডিজিজে ভুগছেন এমন অনেকের জন্য গমের রুটি উপযোগী নাও হতে পারে।
৫. জোয়ার রুটি
জোয়ার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে। খুশি ছাব্রার মতে, এটি প্রতিদিনের খাবারের জন্য একটি বুদ্ধিদীপ্ত শস্যের বিকল্প।
রুটি শুধু পেট ভরানোর খাবার নয়, এটি আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই অভ্যাসের বাইরে গিয়ে কখনো কখনো রাগি, বাজরা বা জোয়ারের মতো শস্যকে জায়গা দিলে শরীরই আপনাকে ধন্যবাদ দেবে। তবে মনে রাখতে হবে সব শস্যই সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। নিজের শরীরের প্রয়োজন বুঝে এবং পরিমিতভাবে রুটি বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এমকে/এসএন