রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। ভুটান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেছেন। এর মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকর একজন ব্যস্ত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও স্বল্প সময়ের জন্য বিশেষ বিমানে এসে নির্দিষ্ট কিছু উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে চলে যান। এসব সফরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে পারে, তাদের সঙ্গে এখন থেকেই সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু এখানে উপলক্ষ মাত্র, মূল বিষয় হচ্ছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ।
সম্প্রতি একটি ইউটিউব চ্যানেলের টক শো প্রোগ্রামে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব নিয়ে কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক সফর নিয়ে তিনি বলেন, এই সফরটি শুধুই শ্রদ্ধা জানানো ছিল নাকি এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বার্তা ছিল তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তিনি বলেন, জয়শঙ্করের এই সফরের মাধ্যমে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে আন্তর্জাতিক মহল একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের অপেক্ষায় রয়েছে।
একইসঙ্গে তিনি মনে করেন, প্রধান উপদেষ্টা বা পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করে কেবল আইন উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করা বর্তমান সরকারের জন্য এক ধরনের কূটনৈতিক অস্বস্তিরও ইঙ্গিত দেয়।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অধ্যায় প্রাকৃতিকভাবেই শেষ হয়েছে, কারণ তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তবে তার রাজনৈতিক প্রভাব পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে এমনটা তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতির কিছু অংশ বিএনপির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বা লিগ্যাসি হিসেবে আরো কিছুদিন বহন করা হবে।
তার কিছু ইতিবাচক রাজনৈতিক দিক বিএনপি অনুসরণ করবে।
অন্যদিকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অধ্যায় নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, অনেকে শেখ হাসিনার অধ্যায় শেষ দেখতে চান না। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, তাদের একটি বড় অংশ এখনো মনে করেন যে শেখ হাসিনার বিকল্প আওয়ামী লীগে নেই। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনার অধ্যায়ও শেষ হওয়া উচিত।
এমকে/এসএন