মালয়েশিয়ায় পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই আইনের আওতায় শুধু স্থানীয় নাগরিকরাই নন, অপরাধী হিসেবে শনাক্ত হলে বিদেশি নাগরিক এবং শিশুদের ওপরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার আবাসন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এনগা কোর মিং।
মন্ত্রী জানান, নতুন বছরের শুরু থেকেই এই আইন মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পাবলিক ক্লিনসিং কর্পোরেশনের ৩৩০ জন কর্মীকে দেশব্যাপী নজরদারিতে মোতায়েন করা হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় কুয়ালালামপুরের বুকিত বিন্তাং এলাকা থেকে ৪২ জনকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১৮ জনই বিদেশি নাগরিক এবং ২ জন শিশু রয়েছে।
মন্ত্রী এনগা কোর মিং আরও বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। রাস্তায় সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ফেলা, থুথু ফেলা বা যেকোনো ধরনের ময়লা ফেললে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।’
শিশুদের ক্ষেত্রে মন্ত্রী জানান, তাদের করা ভুলের জন্য বাবা-মা বা অভিভাবককে সম্পূর্ণ দায়ভার গ্রহণ করতে হবে এবং নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ২০০৭ (আইন ৬৭২)-এর অধীনে এই কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধের ধরন ভেদে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত দোষী সাব্যস্ত করলে অপরাধীকে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা জনসেবামূলক কাজ যেমন- রাস্তা পরিষ্কার, ঘাস কাটা বা আবর্জনা সংগ্রহের নির্দেশ দিতে পারে।
কেউ যদি আদালতের নির্দেশিত কমিউনিটি সার্ভিস করতে অস্বীকার করে তবে তা আলাদা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সমপরিমাণ পুনরায় জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।
বর্তমানে দেশটির জোহর, মেলাকা, নেগেরি সেম্বিলান, পাহাং, পার্লিস, কেদাহ এবং কুয়ালালামপুর ও পুত্রাজায়ায় এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এছাড়া সেলেঙ্গর, পেনাং ও কেলানতানের মতো রাজ্যগুলোকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই আইন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়াকে একটি উন্নত ও পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এসকে/এসএন