ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান কিরিলো বুদানভকে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের নতুন প্রধান হিসেবে মনোনীত করার কথা শুক্রবার ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত নভেম্বরে দুর্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে আগের শীর্ষ সহকারী পদত্যাগ করার পর এই নিয়োগ এলো।
৩৯ বছর বয়সী বুদানভ ইউক্রেনে ইতিমধ্যে কিংবদন্তিতুল্য খ্যাতি পেয়েছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া সর্বাত্মক হামলা শুরু করার পর থেকে সাহসী একাধিক অভিযানের নকশা করার কৃতিত্ব তার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি কিরিলো বুদানভের সঙ্গে বৈঠক করেছি এবং তাকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধানের দায়িত্বের প্রস্তাব দিয়েছি।’ প্রায় চার বছরের যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এ মনোনয়ন এলো। জেলেনস্কি বুধবার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থ এক শান্তিচুক্তি ‘৯০ শতাংশ’ প্রস্তুত।
তিনি বলেন, ‘এই সময়ে ইউক্রেনের নিরাপত্তা ইস্যুতে আরো বেশি মনোযোগ দরকার, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উন্নয়নে এবং পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার ধারায়।
কিরিলোর এসব ক্ষেত্রে বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ফল আনার মতো যথেষ্ট দৃঢ়তাও আছে।’
বুদানভ জানান, তিনি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং ‘ইউক্রেনের সেবায়’ কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি টেলিগ্রামে বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য এই ঐতিহাসিক সময়ে কৌশলগত নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মনোযোগ দেওয়া আমার জন্য যেমন গৌরবের, তেমনি দায়িত্বের বিষয়।’
তাকে প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জেলেনস্কির উপদেষ্টা দিমিত্রো লিতভিন। নিয়োগ পেলে বুদানভ দায়িত্ব নেবেন আন্দ্রি ইয়ারমাকের জায়গায় যিনি নভেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তার বাড়িতে তল্লাশির পর পদত্যাগ করেন।
ইয়ারমাক ছিলেন জেলেনস্কির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তবে কিয়েভে তিনি ছিলেন বিতর্কিত এক ব্যক্তি। সমালোচকরা বলতেন, তিনি বিপুল ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছেন, প্রেসিডেন্টের কাছে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং বিরুদ্ধ মতকে নির্মমভাবে উপেক্ষা করেছেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী চার বছরের এই সংঘাত ১০ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস করেছে।
এসএস/টিকে