আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মির্জাপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী সুজন মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের আদালতে মামলার আবেদন করেন।
আদালত আবেদন আমলে নিয়ে সিআর রেজিস্ট্রারে নিবন্ধনের পাশাপাশি অভিযোগকারীর জবানবন্দি নেয়। একইসঙ্গে মির্জাপুর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিলকৃত অভিযোগটি এফ আই আর হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেন।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) মামলার বিষয়টি জানা যায়।
মামলায় বাসাইল-সখীপুর আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে আট নম্বর আসামি করে ৪৪ জনের নামে মামলা করা হয়। এছাড়া আরও ১৫০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান আহমেদ শুভকে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাহারিম হোসেন সীমান্ত, সাবেক এমপি শুভর ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির, ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নাল।
মামলার বিবরণে আট নম্বর আসামি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক পার্টনার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন নিপীড়নের অর্থ জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক সংলগ্ন গোড়াই হাইওয়ে থানার সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে উল্লিখিত নামের আসামীরাসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০০-১৫০ জন সন্ত্রাসী লাঠি, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, পিস্তল, সর্টগান, রিভল বার নিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে আহত করে। এতে বাদী সুজন মিয়া আহত হয়। এ ঘটনায় তিনি টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মির্জাপুর আমলি আদালতে এই মামলা করেন।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফজলুল হক বাচ্চু বলেন, সালাউদ্দিন আলমগীরের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখার জন্য একটি মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নিবেন।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন আলমগীর বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা এতদিন নির্যাতিত হতো তারা এখন দলীয় প্রধানের নির্দেশ অমান্য করে নির্যাতনকে হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো প্রার্থীকে ঘায়েল করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের মামলা একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলার বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই জানতে পেরেছি, তবে নথি এখনও হাতে পাইনি।
টিজে/এসএন