ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে কারাগারে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া শ্রীকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া কুটি রয়েছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মাগুরা-১ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে এর মধ্যে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া (কুটি) এবং গণফোরামের প্রার্থী মিজানুর রহমান।
মাগুরা-২ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন—জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিয়ার রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত মোয়াজ্জেম হোসেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার সাবেক এপিএস।
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা-১ আসনের প্রার্থী কুতুবুল্লাহ হোসেনের ১ শতাংশ ভোটার হিসেবে ৪ হাজার ৩০৮ জনের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা উপস্থাপন করার কথা; কিন্তু তিনি ৪ হাজার ১০০ জন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া, ঋণখেলাপির অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনের মনোনয়ন বাতিল হওয়া অপর প্রার্থী গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার মিজানুর রহমান। আয়কর রিটার্ন দাখিল না করার কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মাগুরা-২ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন ভোটারের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা ছাড়াও হলফনামায় তিনি মাস্টার্স পাশ উল্লেখ করেছেন। তবে পাশের সনদ জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া, হলফনামা অসম্পূর্ণ থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী মশিয়ার রহমানের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর কুতুবুল্লাহ কারাগারে থাকা অবস্থায় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ সালেক মূহিদের কাছে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ শেষে নিজ বাড়ি ও নির্বাচনী এলাকা শ্রীপুরে ফেরার পথে নিজনান্দুয়ালী হাজরার মোড় নামক স্থান থেকে গ্রেপ্তার হন কুতুবুল্লাহ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন মিয়ার ছেলে।