জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটটা আসলে দল ছেড়ে আসার শুধুমাত্র কারণ না। কারণ রাজনৈতিকভাবে আপনি যখন নির্বাচনমুখী হবেন, তখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনের ইশতেহার, তারপর আমাদের এই গণ-অভ্যুত্থানের পরে সংস্কারের একটা ব্যাপার আছে। ওসব কেন্দ্র করে গণভোট আছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি। এসবের সঙ্গে যাদের মিলে যাবে, তাদের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হতে পারে।
এটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। এটার কারণে পদত্যাগ বা দল ছেড়ে চলে আসা বা এটা না। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দেশের এক গণমাধ্যমে আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
তাজনূভা জাবীন বলেন, আমি লিখেছিলাম, যে প্রক্রিয়ায় হয়েছে, কারণ ১২৫ জনের মধ্যে আমি একজন। কিন্তু যে ধরনের প্রচার-প্রচারণা বা যে স্বপ্ন, আস্থা, বিশ্বাসের কথা বলেন বা যে রোডম্যাপ আমরা দেখিয়েছিলাম সাধারণ মানুষকে, আমি জানি না যে এনসিপি ওই ১৪৮৬ বা ১২৫ জনের বাকিজনের কাছে ন্যূনতম ক্ষমা চেয়েছে কি না যে আমরা আমাদের নির্বাচনী জোটের কারণে বা আমাদের কৌশলের কারণে আমাদের সরে আসতে হয়েছে। যারা মনোনয়ন ফর্ম কিনেছিলেন, ওখানে একজন রিকশাচালক ছিলেন এবং এগুলো নিয়ে কিন্তু ব্যাপক প্রচার হয়েছিল এবং ওখানে একজন জুলাই যোদ্ধা ছিলেন, যার মুখে কয়েকবার অপারেশন করতে হয়েছে। তাহলে এই যে এই মানুষগুলোর কাছে আমরা বা আমাদের বার্তাটা কি ছিল যে আমরা আমাদের স্লোগানটাই কি ছিল? মানে আমাদের বলতে, আমি যখন এনসিপির ছিলাম যে ক্ষমতা না জনতা, জনতা জনতা; আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম। এটা আমাদের সিগনেচার স্লোগান।
এই স্লোগানগুলোর যখন প্রতিফলন আপনার আসে না, তখন আপনি মানুষের কাছে কি নিয়ে যাবেন? তিনি বলেন, আমি যখন মিডিয়াতে কথা বলি বা মানুষের কাছে যাই, তখন আমি নতুনের বার্তা নিয়ে যাই। আমি পরিষ্কারভাবে জানি আমি কি হতে চাই না। তাহলে জামায়াতের সঙ্গে জোট হতেই পারে। নির্বাচনী জোট যেকোনো সময় হতে পারে। একদম প্রথমে কেন? যখন আমরা স্ট্রাগল করছি, এনসিপি স্ট্রাগল করছে তার পরিচয়টা দাঁড় করানোর জন্য।
তার স্বকীয়তা দাঁড় করানোর জন্য। জন্মলগ্ন থেকে যে দলকে জামায়াতের এক্সটেনশন বলে প্রচার করা হয়, বিশ্বাস করা হয় যে বিশ্বাস থেকে মানুষকে আমরা বের করতে পারিনি। তাহলে কেন এই বিশ্বাসে একদম সিলমোহর দেওয়া। এটা ছিল প্রথম।
এনসিপির এই সাবেক কেন্দ্রীয় নেত্রী বলেন, দ্বিতীয়ত হচ্ছে যে আমরা কখনোই বলিনি যে আমরা বিএনপির সঙ্গে জোটে যাব বা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাব। আমরা কখনোই বলিনি। অনেকে মনে করছেন যে বিএনপির সঙ্গে জোট হলে হয়ত আমরা এই পদক্ষেপ নিতাম না, আমরা অনেকে। বাই দ্য ওয়ে, এখানে শুধু আমি বা জারা না, আরো অনেক নারী নেত্রী এই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যাদের কথা হয়ত আলোচনায় আসছে না, যারা হয়ত ওই ছবির মধ্যেও ছিলেন না। আরেকজন যুগ্ম আহ্বায়ক মাইক্রোবায়োলজিস্ট আইসিডিডিআরবিতে কাজ করেন, তিনিও সরে দাঁড়িয়েছেন। আরেকজন নারী চলচ্চিত্র পরিচালক তিনিও সরে দাঁড়িয়েছেন। তাহলে পুরো যে জিনিসটা, আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান থেকে জন্ম নেওয়া একটা রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে মানুষের কাছে যে বার্তাটা আমরা নিয়ে গিয়েছি, সেই বার্তাটা হঠাৎ করে হারিয়ে গেল।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে কেন এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত! একটা কথা খুব প্রচলিত আছে না যে আপনি যখন ভুল ট্রেনে উঠে যাবেন, আপনি যত তাড়াতাড়ি ভুল ট্রেন থেকে নামবেন, তত তাড়াতাড়ি আপনি ভুল গন্তব্যে না পৌঁছে ফেরত এসে আপনার ট্রেন চেঞ্জ করতে পারবেন বা আপনার পথ চেঞ্জ করতে পারবেন। আমি কনভিন্স ছিলাম যে আমি ভুল ট্রেনে। আমি যে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থার কথা বাংলাদেশে এতদিন বলে এসেছি এবং যেটার বাস্তবায়ন করতে আমি রাজনীতিতে, আমি সেটা এখানে থেকে পারব না।
এটাতে আমি কনভিন্স। তাহলে আমাকে অন্য ট্রেনের ব্যবস্থা করতে হবে আমার গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য। গন্তব্যটা কি? গন্তব্যটা অবশ্যই অনেকে বলছেন যে এমপি হওয়া, এটা কি অপরাধ? আপনারা যেভাবে রিএক্ট করছেন যে এমপি হওয়া মনে হয় অপরাধ! রাজনীতিতে ডেফিনেটলি এমপি হওয়া অপরাধ না, সংসদে আপনার ওই আওয়াজটা যাবে, সেই আওয়াজটা যাওয়ার জন্যই তো আমরা এই যুদ্ধটা করছি।
কিন্তু আপনি যখন ওই আওয়াজটা মানুষকে বলবেন যে আমি নতুন, কিন্তু আপনি পুরনো আওয়াজ হয়েই ওখানে যাবেন। তাহলে এইটা থেকে তো আমরা বের হয়ে আসার জন্যই আমরা রাজনীতিতে এসেছি। তাহলে আমি মানুষকে যেটা কথা দিয়েছি, যেটা বলছি যে এটা এটা হতে চাই না। এটা আমরা নিশ্চিত। তো এখন দল যদি তার নির্বাচনী জোট বেছে নেয়, তার পথ বেছে নেয়, আমাদের বেশ কয়েকজনকে আমাদের পথ বেছে নিতে হয়েছে আরকি।
এসএস/টিকে