শীতকালে কলা খাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা সংশয় ও বিতর্ক দীর্ঘদিনের। প্রচলিত একটি ধারণা রয়েছে যে, কলা একটি শীতল ফল এবং এটি খেলে সর্দি-কাশি হওয়া বা ‘বুক দেবে যাওয়া’র মতো সমস্যা হতে পারে।
তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও পুষ্টিবিদদের মতে, শীতকালে কলা খাওয়া নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক নিষেধাজ্ঞা নেই; বরং এই ঋতুতে নিয়মিত কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা বা বিশেষ কোনো অ্যালার্জি না থাকলে শীতের খাদ্যতালিকায় নিশ্চিন্তে কলা রাখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব ঋতুতেই কলাকে একটি স্বাস্থ্যকর ফল হিসেবে খাওয়ার সুপারিশ করেছে। কলার পুষ্টিগুণ যেমন পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬ এবং আঁশ ঋতুভেদে পরিবর্তিত হয় না।
অনেকে মনে করেন শীতে কলা খেলে হজমে সমস্যা হয়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। বরং কলা দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে শরীরে উষ্ণতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে আয়ুর্বেদিক মতে একে ‘শীতল’ প্রকৃতির ফল বলা হয় বলে রাতে খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে কলার কিছু বিশেষ উপকারিতা রয়েছে। এতে থাকা ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ দ্রুত শক্তি জোগায়, যা শীতের জড়তা কাটাতে কার্যকর। এছাড়া কলার ভিটামিন ‘সি’ ও ‘বি-৬’ শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে শীতকালীন সর্দি-কাশি মোকাবিলায় সাহায্য করে।
কলায় থাকা ট্রিপটোফ্যান নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদন করে, যা শীতকালীন বিষণ্নতা বা ‘উইন্টার ব্লুজ’ কাটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
যদিও বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতা প্রয়োজন। যাদের আগে থেকেই অ্যাজমা, অ্যালার্জি বা দীর্ঘস্থায়ী কফের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি কিছুটা মিউকাস তৈরি করতে পারে।
এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের প্রাকৃতিক শর্করার কথা মাথায় রেখে পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া উচিত।
পুষ্টিবিদরা পরামর্শ দেন যে, শীতকালে রাতের বদলে সকাল বা দুপুরে কলা খাওয়া বেশি নিরাপদ। কলার সঙ্গে ওটমিল, দারুচিনি বা আদা মিশিয়ে খেলে শরীরের উষ্ণতা বজায় থাকে। ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যতালিকায় অন্যান্য শীতকালীন ফলের পাশাপাশি নিয়মিত একটি বা দুটি পাকা কলা খাওয়া সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ।
তথ্যসূত্র: জার্নাল অব মেডিকেল ফুড
আরআই/টিকে