আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে জমা পড়া ৪৭টি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং পাঁচজনের মনোনয়ন প্রাথমিকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বাকি ৩৫ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন আইনি ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে কিছু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে।
সিলেট-১ এই আসনে ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। কারও মনোনয়ন বাতিল হয়নি। তবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হকের যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের কাগজপত্র না থাকায় তার মনোনয়ন স্থগিত রাখা হয়েছে।
সিলেট-২ আসনে ৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তারা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস (নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর ছেলে) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস শহীদ। তাদের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর-সংক্রান্ত অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
সিলেট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা ও মাইনুল বাকরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে এক শতাংশ ভোটারের তথ্যের গরমিলের কারণে। এ ছাড়া, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের সনদ না থাকায় তার মনোনয়ন আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। রোববার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, কারণ তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর ছিল না। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের মনোনয়ন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাগজপত্রে অসঙ্গতির কারণে।
সিলেট-৫ আসনে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সাউফুদ্দিন খালেদ ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। সিলেট-৬ আসনে ৬ জন মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে দুইজনের মনোনয়ন স্থগিত ও একজনের বাতিল করা হয়েছে। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত জটিলতায় এবং বিএনপি প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন আয়কর-সংক্রান্ত কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের মনোনয়ন এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের গরমিলের কারণে বাতিল করা হয়েছে।
এবি/টিকে