বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙ্গচুর
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪৪ এএম | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর অভিযোগে প্রভাতী ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এন্ড হাসপাতালে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় অবস্থিত প্রভাতী হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জবা বালা রানী (৩০) বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার শিবাকলমা ইউনিয়নের শিপন চন্দ্রের স্ত্রী। তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন।
নিহতের স্বজনরা জানান, বুধবার তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে জবাকে প্রভাতী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে এবং গর্ভপাত করতে হবে। এরপরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গর্ভপাতের প্রস্তুতি হিসেবে ইনজেকশন দেওয়ার পর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর স্বজনরা দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে সেখানে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই জবার মৃত্যু হয়েছে।
পরে স্বজনরা নিহতের মরদেহ নিয়ে প্রভাতী হাসপাতালে ফিরে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাসপাতালে ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বামী শিপন চন্দ্র, খালা শান্তি রানী ও মামা শ্রী মাখন চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই জবার মৃত্যু হয়েছে। তারা বলেন, মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে হাসপাতালের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।
প্রভাতী হাসপাতালের ম্যানেজার রুবেল বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি দাবি করেন, রোগীর স্বজনরা হঠাৎ হাসপাতালে ঢুকে ভাংচুর ও কর্মীদের মারধর করেছেন।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
আরআই/টিএ