আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা, বেতাগী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম মনিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। তিনবারের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি বর্তমানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান।
আগামী ৭ জানুয়ারি সকাল ১০টায় মনিকে বরগুনা জেলা জজ আদালত ভবনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ভবনে অবস্থিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য বা ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
বরগুনা-২ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বরিশালের জজ শেখ ফারহান নাদিম স্বাক্ষরিত চিঠিতে গত বৃহস্পতিবার এই শোকজ নোটিশ জারি করা হয়। অভিযোগকারীদের কাছে সেই নোঠিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। তাঁদেরই একজন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নুরুল ইসলাম মনির বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মো. শামীম আহসান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীর সমন্বয়ক মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আকন। সোমবার শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত করে মো. শামীম আহসান বলেন, অভিযোগকারী হিসেবে শনিবার তাঁকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদ বিষয়টি দেশের একটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, গত ২৯ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় পাঁচজনের বেশি ব্যক্তির উপস্থিতি নিষিদ্ধ থাকলেও দলবল নিয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে তিনি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং বিদ্বেষমূলক স্লোগান দেন। এ সময় সাংবাদিকদের দিকেও তিনি তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে আরো বলা হয়, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সরকারি কাজে বিঘ্ন ঘটে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি দেখেছেন, তবে এখনো কোনো লিখিত নোটিশ হাতে পাননি তিনি।
নুরুল ইসলাম মনি ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে জয়ী হন। ওই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি দলটিতে যোগ দেন। এক পর্যায়ে বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হন।
এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম মনি সাংবাদিকদের বলেন, শোকজের বিষয়ে তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না।
ইউটি/টিএ