লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, আমরাও জামায়াতে যোগ দান করিনি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দান করেনি। তিনি বলেন, আমাদের মার্কা ‘দাড়িপাল্লা’ নয়, আমাদের মার্কা ‘ছাতা’। আমরা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এবং জুলাইয়ের শক্তি একত্রিত হয়েছি। আমরা আসন সমঝোতা করেছি। আমরা যে আসনে প্রার্থী দেবো, জামায়াত সেই আসনে প্রার্থী দিবে না। একই ভাবে তারা যেখানে প্রার্থী দিবে আমরাও সেখানে দিব না।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর মগবাজারের গুলফেশাঁ প্লাজায় এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. অলি আহমদ আরো বলেন, জামায়াত এখন পরিশুদ্ধ। পরিশুদ্ধ না হলে বীর বিক্রম এবং মুক্তিযোদ্ধা তাদের সাথে গেল কিভাবে? যারা বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছিল, সবাইকে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে সেই তরুণদের মেজরিটি ছিল জামাতের ছেলেরা। বিএনপির থেকে তো মহাসচিব বলে দিয়েছে এই সংগ্রামের সাথে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নাই। সুতরাং যারা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করল আর আমি প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম -আমরা সবাই একসাথে হয়েছি। আপনাদেরকে সুশাসন দেওয়ার জন্যই আমরা একসাথে হয়েছি।
এসময় বাংলাদেশ কিভাবে চলবে সেটি দেশের জনগণ ঠিক করবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ভারতের সাথে কোন বিরোধ নেই। তবে আমরা মোদির গোলাম হিসেবে কাজ করব না। অমিত শাহর গোলাম হিসেবে কাজ করব না। বাংলাদেশের জনগণ ঠিক করবে বাংলাদেশ কিভাবে চলবে। দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হবে আর বাংলাদেশে কাজ হবে, এই ধরণের বেঈমানি আর মোনাফেকির কাজে আমরা যাব না।
জনগণকেও বলতে চাই, যারা দিল্লির ও মোদির দালালি করছে তাদের থেকে সাবধান থাকেন। হাসিনা যা করেছে আমরাও যদি তাই করি তবে হাসিনা এবং আমাদের মধ্যে কী পার্থক্য থাকবে? আমরা ভারতের দালাল হতে চাই না। যারাই ভারতের দালালি করছে তাদেরকে চিহ্নিত করেন।
তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কারণ তারা বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করতে চায়। অর্থ ও নারীসহ বিভিন্ন লোভে আকৃষ্ট হয়ে ভারতের কাছে তারা আত্মসমর্পণ করেছে।
এপ্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ভারতের লোকের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। তারাও আমাদের মতো মানুষ। তবে ভারতের ও র-এর নীতিতে আমরা কাজ করতে চাই না। আমরা কাজ করবো বাংলাদেশের জনগণের মতামতের ভিত্তিতে। জামায়াতও একই জিনিস চায়। সেজন্য আমরা জামায়াতের সাথে আসন সমঝোতায় এসেছি।