রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে টিকিট জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ১০টি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পেয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভ্যন্তরীণ তদন্তে যাত্রীদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে টিকিট ইস্যু, একাধিকবার মালিকানা বদল এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিতসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টিকিট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত চক্র শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং একই সঙ্গে বিমানের অভ্যন্তরে অন্য কেউ এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
বিমানের রাজস্ব বিভাগের নিয়মিত নজরদারির সময় টিকিট ইস্যু ও অর্থ পরিশোধের প্যাটার্নে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। এরপর বিশেষ তদন্তে উঠে আসে, কিছু ট্রাভেল এজেন্ট বিমানের আইটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অননুমোদিতভাবে টিকিট ইস্যু করছিল। তদন্তে জানা যায়, একটি টিকিট যাত্রীর হাতে পৌঁছানোর আগে তিন থেকে চারবার হাতবদল হতো, ফলে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছিল।
তদন্তে জালিয়াতি চক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে ‘বন ভয়েজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ওভারসিজ’-এর নাম উঠে এসেছে। এ ছাড়া তাদের সহযোগী সাব-এজেন্ট হিসেবে গাইবান্ধাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইডেন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস ও ক্রিয়েটিভ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলসের সঙ্গে বিমানের সব ধরনের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এই চক্রে জড়িত চারটি ট্রাভেল এজেন্সি ও ছয় ব্যক্তির আইএটিএ আইডি এবং টিকিট ইনভেন্টরি ব্যবহারের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।
বিমানের রেভিনিউ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের জালিয়াতি শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
তাই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, সময়মতো এই অনিয়ম শনাক্ত না হলে বিমানকে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতো।
কেএন/টিকে