চলমান অ্যাশেজ সিরিজে ট্র্যাভিস হেড ইংল্যান্ডের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকলেন। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে আরেকটি সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুললেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটার। এই ভেন্যুতে হেড তার প্রথম ও এক সিরিজে ওপেনার হিসেবে যৌথ সর্বোচ্চ তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন।
পার্থ ও অ্যাডিলেডে ম্যাচ জয়ী ইনিংসের পর চলতি সিরিজে তিন নম্বর সেঞ্চুরি করে ১১ জনের অভিজাত তালিকায় নাম লিখলেন হেড, যেখানে আছেন ম্যাথু হেইডেন, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল স্ল্যাটার ও জ্যাক হবসের মতো লিজেন্ডরা।
তবে ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২৪ বছরের এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হেড। ২০০২-০৩ মৌসুমে হেইডেনের পর প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করার নজির গড়লেন তিনি। একই সঙ্গে সেঞ্চুরির ইনিংসের পথে তিনি কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৬ বছরের পুরোনো এক অনন্য কীর্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন।
তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত হেড ১৬০ বলে ১৬২ রানে অপরাজিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিল ২৪টি চার ও ১টি ছক্কা। তিনি অ্যাশেজের ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১৫০ রান করার রেকর্ড গড়েছেন। এর ফলে তিনি ব্র্যাডম্যানকে ছাড়িয়ে যান, যিনি ১৯৩০ সালে লর্ডসে ১৬৬ বলে ১৫০ রান করেছিলেন।
হেড এই তালিকায় দুইবার স্থান পাওয়া একমাত্র ব্যাটার; এর আগে ২০২১ সালে ব্রিসবেনে তিনি ১৪৩ বলে ১৫০ রান করেছিলেন।
বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরি করলেন হেড। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ এবং জাস্টিন ল্যাঙ্গার, হেইডেন ও ডেভিড ওয়ার্নার এই কীর্তি গড়েন। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল হেডের। ৬৫তম টেস্ট ম্যাচে খেলার পথে তিনি অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, হোবার্ট, পার্থ, মেলবোর্নের পর এবার সিডনিতেও শতক হাঁকালেন।
৯১ রানে দিন শুরু করেছিলেন হেড। কভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে বাঁহাতি ব্যাটার ১০৫ বলে তার ১২তম টেস্ট শতকের দেখা পান। নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটি গড়েন তিনি। এই সেঞ্চুরির পথে চলমান অ্যাশেজ সিরিজে ৬০০ রানের মাইলফলক ছোঁন হেড। ইতিহাসের নবম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়লেন। ২০১০-১১ অ্যাশেজে কুকের ৭৬৬ রানের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই মাইলফলকে অজি ব্যাটার।
হেডের অনবদ্য ইনিংসে সিডনিতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ অনুকূল মনে হচ্ছে এবং চা বিরতি পর্যন্ত স্বাগতিকরা ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ থেকে মাত্র ৭ রান পিছিয়ে ছিল।
দিনের শুরুতে ১৬৬/২ স্কোর নিয়ে খেলা শুরু করার পর, হেড নাইটওয়াচম্যান নেসারকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান। নেসার ৯০ বল খেলে ২৪ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্রাইডন কার্স নেসারকে আউট করে ইংল্যান্ডের আশা কিছুটা জাগিয়ে তুললেও স্টিভ স্মিথ ৬৫ রানে উইকেটে থিতু হয়ে আছেন। যদিও স্মিথ কিছুটা ভাগ্যবান ছিলেন, কারণ ইনিংসের শুরুতে লেগ স্লিপে জ্যাক ক্রলি তার ক্যাচ মিস করেন।
চা বিরতির আগে ১৬৩ রানে বেথেলের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন হেড। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখেছে। ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রানের জবাবে ৬ উইকেটে ৩৭৭ রানে শেষ সেশন শুরু করবে তারা।
আরআই/টিকে