পৌষের তৃতীয় সপ্তাহে এসে সমুদ্রশহর কক্সবাজারে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। ভোরের কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর শান্ত নীল সমুদ্র- সব মিলিয়ে প্রকৃতির রূপে স্পষ্ট শীতের উপস্থিতি।
বিশেষ করে সকাল ও রাতের দিকে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে জেলার উপকূলজুড়ে, মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মেলেনি সূর্যের দেখা।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস বলছে,চলতি শৈত্য প্রবাহে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। মঙ্গলবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, শীত শুধু তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে না, এটি অনেকটাই ভূপৃষ্ঠের তাপের ওপর নির্ভরশীল। ভূপৃষ্ঠ যদি উত্তপ্ত না হয়, তাহলে শীত বেশি অনুভূত হয়।
তিনি বলেন, তাপমাত্রা যদি ১৪ ডিগ্রি থাকে, সে ক্ষেত্রে অনুভূত তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় কক্সবাজারে শীত সাধারণত সহনীয় থাকলেও শীতের পরিধি দীর্ঘ হলে ঠান্ডার অনুভূতি বেড়ে যায়। যদি রোদের উপস্থিতি কম থাকে তবে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পৌষের শেষ ভাগ পর্যন্ত কক্সবাজারে শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সকাল ও রাতের সময় শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শীত বেশি হওয়ায় জনজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে, সকালে মানুষের আনাগোনা কম দেখা গেছে। রিকশা চালক নুরুল আমিন বলেন, আগে ভোরে ঘর থেকে বের হতাম এখন শীতের কারণে তাও পারছি না, সূর্যের দেখা নাই। ইনকাম কমেছে এবং ঠান্ডা সামলাতে কষ্টও হচ্ছে।'
পর্যটন মৌসুম হলেও বছর শুরুতে বেশি উপস্থিতি থাকলেও এখন কিছুটা পর্যটক কমেছে। বগুড়ার আল আমিন চৌধুরী বলেন, এবার কক্সবাজারে শীত বেশি, ভালো লাগছে পরিবেশটা৷ সময় পেলেই চলে আসি দুই-তিন দিন থাকার ইচ্ছে আছে।
আরআই/টিকে