২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে কারফিউ জারি, ব্যবসায়ীদের নিয়ে গণভবনে বৈঠক করে হত্যাকাণ্ডে সহায়তাসহ পাঁচ অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হবে কি না আদেশ ১২ জানুয়ারি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টে যেই কারফিউ জারি করা হয়, তা কোনো আইনসঙ্গত কারফিউ ছিলো না, এটা ছিলো গণহত্যা সংগঠন করার জন্য। ১৫ বছরের অবৈধ শাসনকে দীর্ঘায়িত করার ক্ষেত্রে অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ছিলেন সালমান এফ রহমান।
ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করার জন্য জুনায়েদ আহমেদ পলককে পরামর্শ দেন সালমান এফ রহমান।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীর দাবি কারফিউ জারির ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারির পরই তারা আলোচনা করে নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যপারে আলোচনা করেছেন। জনগণের জানমাল রক্ষার্থেই কারফিউ দেয়ার আলোচনা হয়েছে। পরে এ মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান তাদের আইনজীবী।
এর আগে গত ২২ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি শেষ করে। শুনানির ওই পর্যায়ে সালমান ও আনিসুলের একটি বিতর্কিত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল।
প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি ছিল, কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ এই প্ররোচনা হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর প্রার্থনা করে প্রসিকিউশন।
গত ৪ জানুয়ারি আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তিনি ট্রাইব্যুনালে শোনানো ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয় বলে দাবি করেন এবং বিদেশি বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে ভয়েস রেকর্ডটি পরীক্ষা করার আবেদন জানান। যদিও ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদনটি খারিজ করে তা নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া মুনসুরুল হক তার মক্কেলদের পক্ষে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের জন্য ১০ ডিসেম্বর একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গত ২২ ডিসেম্বর সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাঠ করেন। এর আগে ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে আদালত তা আমলে নেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় করা ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এই অপরাধের দায়ভার ও উসকানির বিষয়েই আজ আসামিপক্ষ তাদের আইনি ব্যাখ্যা ও অব্যাহতির আবেদন পেশ করবেন।
টিজে/টিকে