ইয়ামি গৌতম এবং আদিত্য ধর বলিউডের অন্যতম পছন্দের দম্পতি। তবে ব্যক্তিগত জীবনে রসায়ন জমজমাট হলেও পেশাদার ক্ষেত্রে তারা যে কতটা কঠোর, তা ফের একবার প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া আদিত্য ধরের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ধুরন্ধর’-এর সাফল্য যখন চারদিকে শোরগোল ফেলে দিয়েছে, তখনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন ইয়ামি।
অভিনেত্রী জানান, ‘ধুরন্ধর’-এর চিত্রনাট্য পড়ার পর তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে মনে মনে এই ছবির অংশ হওয়ার ইচ্ছা জেগেছিল তার।
এমনকি মজার ছলে স্বামীর কাছে আবদারও করেছিলেন একটি চরিত্রের জন্য। কিন্তু পরিচালক আদিত্য ধর জানিয়ে দেন, এই ছবির কাস্টিংয়ে কোনো স্বজনপোষণের জায়গা নেই।
ইয়ামির কথায়, “চিত্রনাট্যটি পড়ার পর আমার মনে হয়েছিল, ইস! আমি যদি মেয়ে না হয়ে ছেলে হতাম, তবে এই ছবির অংশ হতে পারতাম। চিত্রনাট্যটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আমি আদিত্যকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাকে নেওয়া যায় কি না।
কিন্তু আদিত্য সরাসরি ‘না’ বলে দেয়।”
আসলে ‘ধুরন্ধর’ ছবিটি একটি স্পাই-অ্যাকশন থ্রিলার, যেখানে রণবীর সিং প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবির বেশিরভাগ চরিত্রই পুরুষপ্রধান। আদিত্য ধর মনে করেছিলেন, ইয়ামিকে জোর করে কোনও চরিত্রে ঢোকানো মানে গল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করা।
পেশাদারিত্বের খাতিরেই তিনি স্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, চরিত্রের প্রয়োজনে যাকে উপযুক্ত মনে হবে, তাঁকেই নেওয়া হবে।
ইয়ামি অবশ্য স্বামীর এই সিদ্ধান্তে একটুও ক্ষুব্ধ নন। বরং তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, ‘আমাদের মধ্যে শুরু থেকেই একটা অলিখিত বোঝাপড়া আছে।
আমরা ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাদার জগতকে এক করি না।
আদিত্য যদি মনে করে অন্য কেউ কোনো চরিত্রের জন্য বেশি যোগ্য, তবে আমি সানন্দে সেটা মেনে নিই। সৃজনশীল কাজে এই সততা থাকা খুব জরুরি।’
এই সাক্ষাৎকারে মাতৃত্ব প্রসঙ্গে ইয়ামি বলেছিলেন, ‘মাতৃত্বের এই সময়টা আমার খুব ভালো কাটছে। আমি এই নতুন জীবনটা দারুণ উপভোগ করছি। মনের মধ্যে কত যে আবেগ খেলা করে!
যদিও এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে, কিন্তু আমার মনে হয় যেন এটাই আমার জীবনের সেরা অধ্যায়। এমনকি এখন কথা বলার সময়ও কেবল ওর (ছেলের) মুখটাই চোখের সামনে ভাসছে।’
এমকে/এসএন