মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউম ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লাতিন আমেরিকায় যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
প্রেসিডেন্ট শিনবাউম বলেন, মেক্সিকো যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ঘোরবিরোধী এবং এই অবস্থান মেক্সিকোর সংবিধান ও জাতিসংঘ সনদের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে। তিনি উল্লেখ করেন, লাতিন আমেরিকার ইতিহাস সাক্ষী দেয় বিদেশি হস্তক্ষেপ কখনোই কোনো দেশে গণতন্ত্র বা স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারেনি।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ৮০ জন নিহত হন। এই হামলার পরই প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস অপহৃত হন। এই ঘটনার সমালোচনা করে মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুয়ান রামন দে লা ফুয়েন্তে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয় ভূমিকারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বহুপাক্ষিক কাঠামো হলেও শক্তিশালী দেশগুলোর আধিপত্য ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ঠেকাতে এটি বর্তমানে ব্যর্থ ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় হস্তক্ষেপের পরপরই ট্রাম্প মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মতো দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট মাদক কার্টেলদের ভয়ে তটস্থ এবং দেশটিতে সেনাবাহিনী পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট শিনবাউম মার্কিন অভিযানের এই হুমকিকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে তিনি এই ধরনের কোনো আক্রমণের আশঙ্কা করছেন না এবং একে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে ট্রাম্প এর আগেও মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা মেক্সিকো সরকার বারবার সার্বভৌমত্বের স্বার্থে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
আইকে/টিএ