অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ প্রদান করে এক্সিম ব্যাংক থেকে ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও নাসা গ্রুপের কর্ণধার নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার দুই সন্তানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ আগস্ট দুদকের উপ-পরিচালক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
অনুমোদিত চার্জশিটে জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মালিক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আর নতুন করে চার্জশিটে আসামি হয়েছেন এক্সিম ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ডিএমডি শামীম ফারুক।
তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, আসামিরা ফ্লামিংগো এন্টারপ্রাইজ নামের অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের বাস্তব যাচাই বা পরিদর্শন না করে, কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ বিতরণ করেন। ঋণ নিয়ে কেনা আমদানিকৃত পণ্য সরেজমিনে পরীক্ষা করা হয়নি এবং কোনো স্টক রিপোর্টও তৈরি করা হয়নি। ঋণের একটি টাকাও ফেরত না দিয়ে, সেই অর্থ নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহার না করে বরং মানিলন্ডারিং বা অর্থপাচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণের এই টাকা নাসা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ জমা ও ট্রান্সফার করা হয়েছে।
আসামি মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের পক্ষে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে পে-অর্ডার করার বিষয়টি এক্সিম ব্যাংক কর্মকর্তারা জানা সত্ত্বেও নিজেরা লাভবান হয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ মঞ্জুরিপত্রের শর্ত সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
আসামি পারস্পরিক যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিশ্বাসভঙ্গ করে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান করে ৬১৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এক্সিম ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুলসহ তার দুই সন্তান নাসা বেসিকস লিমিটেডের সাবেক এমডি ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম, আনিকা ইসলাম ছাড়াও ব্যাংকটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ফ্লামিংগো এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মোশাররফ হোসেন, মদিনা ডেটস অ্যান্ড নাটসের প্রোপ্রাইটর মোজাম্মেল হোসাইন, এনএমসি অ্যাপারেলস লিমিটেডের ডেপুটি এমডি আবুল কালাম ভুঁইয়া আসামিকে হয়েছেন। পাশাপাশি এক্সিম ব্যাংকের শীর্ষ ২৫ জন কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।
আইকে/টিএ