সেখানে বলা হয়েছিল, তদন্ত যতদিন চলবে ততদিন বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদার বিশ্ববিদ্যালয়ে না থাকলেই ভাল। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছুটিতে গেলেন শাশ্বতী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, শ্বাশতী ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন, তা মঞ্জুর করা হয়েছে। ৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৪ দিনের ছুটি নিয়েছেন শাশ্বতী।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে শ্বাশতীর সঙ্গে কথা বলেন, উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। তারপর পরেই এই সিদ্ধান্ত হয়। শাশ্বতী হালদারও বলেন, “আমি মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলি। তার পর ছুটির আবেদন করি। সেই আবেদন গৃহীত হয়েছে।”
উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “ছুটিতে পাঠানোর কোনও প্রশ্ন নেই। ব্যক্তিগত কারণে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। আমি সেটি মঞ্জুর করেছি।” গত ২৪ ডিসেম্বর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষার্থী হাতে পোস্টার নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল- ‘মাই বডি মাই চয়েস’, ‘সে নো টু ইসলামোফোবিয়া’।
কেন তাদের হাতে এই পোস্টার?তা নিয়ে প্রশ্ন করলে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর স্নাতক তৃতীয় বর্ষের পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা চলছিল। সেই সময় পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগ ওঠে কিছু পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
সেই সময়ে পরীক্ষার রুমে শুরু হয় তল্লাশি। ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দুই ছাত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে হিজাব খুলতে বাধ্য করেন। যদিও ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদার তার বক্তব্য জানিয়ে যে প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছেন, তাতে মূলত তিনি পরীক্ষা চলাকালে নকল ঠেকাতে ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলেই উল্লেখ করেছেন।
হিজাব পরা ওই ছাত্রীর মাথার কাপড় খুলে দেখা যায় তার কাছে কোনও নকল নেই। এরপর বিভাগীয় প্রধান ছাত্রীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেন। অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময়ও দেওয়া হয় তাকে।
এরপরই ঘটনাটিকে ঘিরে বিতর্কে তোলাপাড় হয় বিশ্ববিদ্যালয়। পোস্টর হাতে কেবল বিক্ষোভই নয়, অভিযোগও দায়ের হয় রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনে। গত সপ্তাহে কমিশনের সদস্যরাও দেখা করে যান উপাচার্যের সঙ্গে।
হিজাব সংক্রান্ত অভিযোগে তদন্তের জন্য একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার এই কমিটিরই বৈঠকে শাশ্বতী হালদারকে তদন্ত চলাকালীন দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
এসএস/টিকে