ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপসারণের পর ট্রাম্প বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। একথার পরই দেশটিতে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কাজ শুরুর এই সময় জানালেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ১৮ মাসের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় কাজে নামতে পারে। আকস্মিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প এই ঘোষণা দিলেন।
এনবিসি নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে। তেল কোম্পানিগুলো সেই অর্থ ব্যয় করবে। পরে যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে অর্থ পরিশোধ করে দেবে অথবা রাজস্বের মাধ্যমে পরিশোধ করা হবে।”
বিবিসি-র অংশীদার সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা এ সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে।
মাদুরোকে অপসারণের পর ট্রাম্প বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। এই কথার পরই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর কাজ শুরু করতে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প। ওদিকে, মাদুরো এখন ফৌজদারি অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে বিচারের মুখে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ১৮ মাসের মধ্যে কাজ করার সময়সীমা জানালেও বলেছেন, তার ধারণা তেল উৎপাদন এই সময় শেষের আগেই বেড়ে যাবে। তবে এতে প্রচুর অর্থ লাগবে।
ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার পেট্রোলিয়াম কোম্পানিগুলোর কাজ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রার কথা ট্রাম্প স্পষ্টভাবেই বলে এসেছেন। তেল উৎপাদক দেশ ভেনেজুয়েলাকে হাতে পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভাল। কারণ, এতে তেলের দাম কম থাকবে, বলেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি কয়েক দিনে ট্রাম্প দাবি করে এসেছেন যে, আমেরিকান তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল অবকাঠামো ঠিক করতে পারবে। ভেনেজুয়েলায় আছে বিশ্বে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেলের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের রিজার্ভ। তবে ২০০০ এর শুরুর দিক থেকে দেশটিতে তেল উৎপাদন কমেছে। ট্রাম্প অবশ্য ভেনেজুয়েলার তেলের মজুত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনাই দেখছেন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার তেলের উৎপাদন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় এবং শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। বর্তমানে কেবল ‘শেভরন’ কোম্পানি সীমিত পরিসরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এসএস/টিকে