ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ছিলেন তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর।
ডিবি প্রধান বলেন, ‘যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উত্তর সিটির সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশেই হত্যা করা হয় হাদিকে।’
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও জানান, ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি এবং গুলিবর্ষণকারী হিসেবে চিহ্নিত ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও তার সহযোগী আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। তবে এই তিনজনের কাউকে গ্রে প্তার করা সম্ভব হয়নি। তারা ভারতে পালিয়ে গেছেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি এবং ফিলিপ নামে একজন পলাতক আছেন। হত্যার কারণ হিসেবে তিনি আরও জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী-বিরোধী অবস্থান নেয়ায় হাদিকে হত্যা করা হয়।
এদিকে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলেই চার্জশিট দেয়া হয়েছে। চার্জশিট দেয়া ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ৫ জন পলাতক রয়েছেন।
অভিযুক্ত ফয়সালের ভিডিওবার্তা নিয়ে শফিকুল ইসলাম বলেন, ভিডিওবার্তা দিতেই পারে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ফয়সাল করিম মাসুদকে আসামি করে ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
এসএন