নির্বাচনী হলফনামায় আয় ও সম্পদ নিয়ে অপপ্রচারের ব্যাখ্যা দিলেন নাহিদ ইসলাম

নির্বাচনী হলফনামায় নিজের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেন তিনি। একইসঙ্গে ওই পোস্টে ‘অপপ্রচারের’ জবাবও দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক।

ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নির্বাচনী হলফনামায় নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এই অপপ্রচার সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদকে সন্দেহের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটি রাজনৈতিক প্রয়াস।

এতে বলা হয়, প্রথমত, বাৎসরিক আয় নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। হলফনামায় যে ১৬ লাখ টাকার বাৎসরিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা কোনো নির্দিষ্ট চাকরি ছাড়ার পর হঠাৎ করে অর্জিত অর্থ নয়; এটি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত) মোট আয়ের হিসাব। এই অর্থবছরের বড় একটি সময় (সাত মাস) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সেই দায়িত্বের বিপরীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন-ভাতা পেয়েছেন।

বাস্তবতা হলো, এই ১৬ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১১ লাখ টাকাই উপদেষ্টা হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধিত, আয়করযোগ্য এবং সম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত। বাকি অংশ এসেছে উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট (পরামর্শক) হিসেবে বৈধ পেশাগত কাজের সম্মানী থেকে, যারও সুস্পষ্ট কর হিসাব রয়েছে।

মোট সম্পদ সংক্রান্ত তথ্যের বিষয়ে ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, নাহিদ ইসলামের মোট সম্পদ ৩২ লাখ টাকা। মোট সম্পদ কোনো এক বছরের আয় নয়, এটি একজন মানুষের পুরো জীবনের সঞ্চয়ের সমষ্টি।

নাহিদ ইসলামের ক্ষেত্রে এই সম্পদ তার প্রায় ২৭ বছরের জীবনের জমাকৃত সঞ্চয়। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের বিপরীতে প্রাপ্ত বেতন থেকে সেভিংস, পূর্ববর্তী সেভিংস, পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহার, স্বর্ণালংকারের মূল্য, ফার্নিচার এবং ইলেকট্রনিক পণ্যের মূল্যের সমষ্টি। পাশাপাশি উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের পর আয়কর পরিশোধিত ইনকামও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। এখানে মোট সম্পদ যেটা একেবারেই সত্য ও একুরেট সেই তথ্যই দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, সেটিও তথ্যের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়।

উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগের সময় নাহিদ ইসলামের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিল, সেটি ছিল উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন মোট আয়ের পর অবশিষ্ট নগদ অর্থ তার মোট সম্পদের প্রতিফলন নয়। পরবর্তীতে সরকারিভাবে মন্ত্রীদের আসবাবপত্র ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ অর্থ একই অ্যাকাউন্টে জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বৃদ্ধি পায়, যা হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মাত্র দুটি একটি সোনালী ব্যাংকে এবং আরেকটি নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ২৮ ডিসেম্বর সিটি ব্যাংকে খোলা। এর বাইরে তার আর কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। একই সঙ্গে এটিও পরিষ্কার যে উপদেষ্টা পদে থাকা অবস্থায় যেমন তার কোনো জমি, ফ্ল্যাট বা গাড়ি ছিল না, পদত্যাগের পরেও তা হয়নি এই তথ্য হলফনামায় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।

পেশাসংক্রান্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, পেশাসংক্রান্ত বিভ্রান্তিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হলফনামার কোথাও নাহিদ ইসলামের পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করা হয়নি। তার পূর্ববর্তী পেশা সরকারের উপদেষ্টা এবং বর্তমান পেশা হিসেবে কনসালট্যান্সি উল্লেখ আছে, যা একটি স্বীকৃত ও বৈধ পেশা। তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও পলিসি সিদ্ধান্তে পরামর্শ দেন যে প্রতিষ্ঠানের নাম ইলেকশন কমিশনে দাখিল করা নথিতেই উল্লেখ রয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং নাহিদ ইসলামের যুক্ত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কখনোই কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এই পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন এতে অস্বাভাবিক বা গোপন কিছু নেই।

ফেসবুক পোস্টে আরো বলা হয়েছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাহিদ ইসলামের আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্য আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনী হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে যাচাইযোগ্য। তিনি উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন আয়, পদত্যাগের পর পেশাগত আয় এবং জীবনের সামগ্রিক সম্পদ—সব কিছু আলাদা করে, স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করেছেন। অথচ এই স্পষ্ট ও পৃথক ক্যাটাগরিগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দিয়ে একটি অসৎ রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা চলছে। বাস্তবে সীমিত সম্পদ ও স্বচ্ছ আয়ের ঘোষণা এই কথাই প্রমাণ করে যে নাহিদ ইসলাম ক্ষমতার অপব্যবহার বা অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের রাজনীতির বাইরে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছেন—আর সেটিই এই অপপ্রচারের মূল অস্বস্তির জায়গা। দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এই দেশে সত্য বলা অনেক সময় অপরাধে পরিণত হয়। যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। অথচ যেসব রাজনীতিবিদ বছরের পর বছর দেশে-বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন, যাদের হলফনামার তথ্য বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না—তাদের ক্ষেত্রে জবাবদিহি প্রায় অনুপস্থিত। কারণ ক্ষমতার সঙ্গে আপস করা থাকলে প্রশ্ন ওঠে না।

এমকে/টিএ

Share this news on:

সর্বশেষ

img
'জুলাই বার্তাবীর' অ্যাওয়ার্ড পেলেন বাংলাদেশ টাইমসের সাবেক মোবাইল জার্নালিস্ট জুবায়ের প্রধান Jan 08, 2026
img
কোচ পরিবর্তন করেও জয় পেল না ইউনাইটেড Jan 08, 2026
img
এবার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে শ্রীলীলা! Jan 08, 2026
img
গাইবান্ধায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি Jan 08, 2026
img
মোদিকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে দিল্লিতে তীব্র অস্বস্তি Jan 08, 2026
img
ভ্রমণে গিয়ে তৈমুর ও জেহকে ছবি তোলার শিষ্টাচার শেখাচ্ছেন কারিনা কাপুর Jan 08, 2026
img
এবারও সিলেটের কাছে হারলো ঢাকা Jan 08, 2026
img
বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো রাজাকার নেই : আখতারুজ্জামান Jan 08, 2026
img

নবম পে-স্কেল

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন বেতন কত করার প্রস্তাব Jan 08, 2026
img
প্রায় ৩ ঘণ্টা পর ঝুট গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে Jan 08, 2026
img
সাকিব ভাই কিংবদন্তি, তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি: ওয়াসিম Jan 08, 2026
img
রসিংটনকে দলে নেওয়ার পেছনের কারণ বলল চট্টগ্রাম Jan 08, 2026
img
সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই গণভোট : আলী রীয়াজ Jan 08, 2026
img
বিগ ব্যাশে হতাশাজনক পারফরম্যান্স বাবর-রিজওয়ানদের Jan 08, 2026
img
দেবলীনা বিতর্কে ভাই সায়ককে স্পষ্ট ও কড়া বার্তা দাদা সব্যসাচীর! Jan 08, 2026
img
স্বর্ণের সঙ্গে এবার রুপার দামেও পতন Jan 08, 2026
img
রুমিন ফারহানাকে মালার সঙ্গে অর্থ উপহার দিলেন বৃদ্ধা Jan 08, 2026
img
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে পতন Jan 08, 2026
img
ডেটিং অ্যাপে কার্তিকের অ্যাকাউন্টে বয়স কম? নতুন বিতর্কে অভিনেতা Jan 08, 2026
img
ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৫০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ Jan 08, 2026