নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর ছবি বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
০৪:৪৭ পিএম | ০৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে এবার শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পুরোনো একটি ছবি বিকৃতভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এর মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে।
রোববার (৯ আগস্ট) শিক্ষামন্ত্রীর ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ তোলা হয়।
পোস্টে লেখা হয়, ছবিটি ২০২৩ সালের ৪ মে, সময় টেলিভিশনের ‘রাতের টকশোর পূর্বে ’-একটি পুরোনো ছবি। অথচ সেই ছবিকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল।
দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলেও ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর কখনো স্তব্ধ করা যায়নি। তিনি নিয়মিত ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন এবং গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন।
ওই ফেসবুক পোস্টে আরও লেখা হয়, দেশের উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারের যে প্রচেষ্টা চলছে, তা বাধাগ্রস্ত করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পুরোনো ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা তৈরির এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ছবি ও তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগ তুলে পোস্টে বলা হয়, পুরোনো একটি ছবিকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। গুজব নয়- সত্য ও তথ্যের ভিত্তিতেই কথা হোক। অপপ্রচার নয়, দেশ ও শিক্ষার উন্নয়নে সবাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখুন।
এর আগে, সকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান ও আরেক ব্যক্তিকে দেখা যায়। পোস্টের ক্যাপশনে পাটওয়ারী লেখেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ বৈঠক।’
তবে, ক্যামেরার সঙ্গে থাকা স্বয়ংক্রিয় দিন-তারিখে দেখা যায় ছবিটি ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তোলা। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনরা তার পোস্টে বিরূপ মন্তব্য করতে শুরু করলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কমেন্টে নতুন তথ্য যুক্ত করেন।
তাতে তিনি দাবি করেন, এহছানুল হক মিলন ও শাজাহান খানের সঙ্গে বসে থাকা লোকটি পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই চৌধুরী। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া সার্কেলের বর্তমান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দাবি, আব্দুল হাই চৌধুরী ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তার ভাষ্য, ‘উনি তো ব্যারিস্টার সুমনের ভাই। তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে— এই আমলে তিনি কীভাবে এত দ্রুত প্রমোশন পেলেন এবং কীভাবে শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকায় পোস্টিং পেলেন? বিষয়টি নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির প্রশ্নের সঙ্গে যেন অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থে এর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।’
এমআই/টিএ