মাদারীপুরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় শহরের সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। শহরের বেশিরভাগ এলাকায় দেখা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ নেই।
প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সবশেষ গত ৪ জানুয়ারি কমিশন নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে। সেদিন ভোক্তা পর্যায়ে জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড অভিযোগ করেছে, বিইআরসি পরিবেশকদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করে নতুনভাবে মূল্য নির্ধারণ করেছে। এতে সিলিন্ডারের সংকট দূর করার বদলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান চালিয়ে আতঙ্ক তৈরি করছে। এতে অনেকে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
গ্যাস ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি বিভাগ, বিইআরসি ও এলপিজি কোম্পানি মিলে আমদানি সমস্যা সমাধান করা উচিত ছিল। তবে বরং অভিযান চালিয়ে পরিবেশকদের হয়রানি করা হচ্ছে। পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকা বাড়ানোর দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত তারা সারা দেশে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) থেকে মাদারীপুরে বন্ধ রয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদারীপুরে গত কয়েকদিন ধরে সিলিন্ডারের চাহিদা বেড়েছে। যদিও কয়েকটি দোকানে কিছু মজুত ছিল, তা বিক্রি হচ্ছিল অতিরিক্ত মূল্যে।
অধিকাংশ ডিলার বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। তারা জানান, পরবর্তী নির্দেশনা এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি করার খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে। কেউ যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউটি/এসএন