মধ্য সত্তরের দশকের সাড়া জাগানো নায়ক জাফর ইকবাল। বাংলা চলচ্চিত্রের স্টাইলিশ নায়কদের মধ্যে অন্যতম তিনি। চিরসবুজ নায়ক হিসেবেও বেশ পরিচিত। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন গিটারিস্ট ও সংগীতশিল্পী।
জাফর ইকবালের আরো একটি বড় পরিচয় তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন প্রয়াত এই নায়ক। তবে বহু প্রতিভাধর এ অভিনেতার শেষ জীবনটা সুখের ছিল না। সেই কাহিনিটা খুবই করুণ।
নিয়ন্ত্রণহীন জীবনযাপনের কারণে একসময় ক্যান্সারে আক্রান্ত হন জাফর ইকবাল। দেখা দেয় হার্টের সমস্যা। নষ্ট হয়ে যায় দুটি কিডনিই। নানা জটিল রোগে জর্জরিত নায়ক ১৯৯২ সালের আজকের দিনে মাত্র ৪১ বছর বয়সে চলে যান আপন ঠিকানায়।
আজ এই হারানো নক্ষত্রের ৩৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৫০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মেছিলেন জাফর ইকবাল। তার বড় ভাই আনোয়ার পারভেজ এবং ছোট বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ দুজনেই ছিলেন সংগীতশিল্পী। তারা কেউই বেঁচে নেই। তবে চলচ্চিত্রাকাশে ধ্রুবতারা হয়েই জ্বলবেন স্টাইলিশ তারকা জাফর ইকবাল।
জাফর ইকবাল অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘আপন পর’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন প্রয়াত কবরী সারোয়ার। পরবর্তীতে নায়িকা ববিতার সঙ্গে তার জুটি দর্শক নন্দিত হয়ে ওঠে। ৩০টির মতো সিনেমাতে একসঙ্গে কাজ করেন জাফর ইকবাল ও ববিতা।
শহুরে রোমান্টিক ও রাগী তরুণের ভূমিকায় দারুণ মানাত জাফর ইকবালকে। তবে সব ধরনের চরিত্রেই তার স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণ ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাগী, রোমান্টিক, জীবন যন্ত্রণায় পীড়িত কিংবা হতাশা থেকে বিপথগামী তরুণের চরিত্রে জাফর ইকবাল ছিলেন পরিচালক ও প্রযোজকদের প্রথম পছন্দ। অভিনয়ের পাশাপাশি চমৎকার গানও গাইতেন তিনি। বেশ কিছু সিনেমাতে গায়ক চরিত্রে অভিনয়ও করেছেন।
১৯৬৬ সালে একটি ব্যান্ড দল গড়ে তোলেন জাফর ইকবাল। তার প্রথম সিনেমায় গাওয়া গান ছিল ‘পিচ ঢালা পথ’। ১৯৮৪ সালে জাফর ইকবালের কণ্ঠে বড় ভাই আনোয়ার পারভেজের সুরে রাজ্জাক অভিনীত ‘বদনাম’ সিনেমাতে ‘হয় যদি বদনাম হোক আরো’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। প্রয়াত প্রখ্যাত সুরকার আলাউদ্দিন আলী তাকে দিয়ে অনেক সিনেমার আবহ সংগীতও তৈরি করিয়েছিলেন। পরে গিটারিস্ট থেকে জাফর ইকবাল হয়ে গিয়েছিলেন চলচ্চিত্রের নামকরা নায়ক।
আরপি/টিকে