সামাজিক মাধ্যমের ভিড়ে কখনও কখনও সত্য আর কল্পনার রেখা অতি সহজে মিলেমিশে যায়। বিশেষ করে পরিচিত মুখ হলে সেই বিভ্রান্তি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এই ধারা দেখা গেছে টেলিভিশন ও ওয়েব ধারাবাহিকের অভিনেত্রী দেবলীনা নন্দীকে ঘিরে। পুরনো ভ্লগ, বন্ধুত্বের মুহূর্ত এবং মজা-ঠাট্টার ভিডিওগুলো একে একে নতুনভাবে কেটে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ খোঁজা হচ্ছে।
এই বিতর্কের মাঝেই অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কটাক্ষ, সন্দেহ ও গুজবের জবাব দিয়েছেন। সায়ক বারবার জানিয়েছেন, বন্ধুত্ব এবং সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য থাকে, প্রতিটি সম্পর্কের নিজস্ব মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে। কিন্তু এত ব্যাখ্যার পরেও জনমহলে প্রশ্ন, কৌতূহল এবং সমালোচনা থেমে নেই।
এই পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নেন সায়কের দাদা, অভিজ্ঞ সাংবাদিক সব্যসাচী চক্রবর্তী। সোমবার রাতে তিনি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করেন, যেখানে বড় করে লেখা ছিল ‘STOP’। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “সায়ক, আজকের পর থেকে দেবলীনাকে নিয়ে কোনও কমেন্ট, কোনও বাইট বা ভিডিও আমি যেন না দেখি। সোশ্যাল মিডিয়া কলতলার ঝগড়ার জায়গা নয়। যে যা বলার বলুক, কিন্তু তোর দিক থেকে আর কোনও নেগেটিভ রিপ্লাই চাই না।”
এই বার্তা শুধুমাত্র সায়কের জন্য নয়, বরং গোটা সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীর জন্যও একটি স্পষ্ট নির্দেশ। ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক চাপ এবং জনসমক্ষে থাকা মানুষের প্রতি কৌতূহলের সীমাহীন আকর্ষণ—এই টানাপোড়েনের মাঝে বিতর্কটি যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সায়ক এবং তাঁর দাদা উভয়েই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে সব ব্যাখ্যার পরও কি সমালোচনার আগুন নিভে যাবে, নাকি পরিচিত মুখ মানেই বারবার কাঠগড়ায় তোলা চলবে? সময়ই এর উত্তর দেবে।
আরপি/টিকে