ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার রাতে কারওয়ান বাজারে স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন।
নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম জানান, সেদিন সন্ধ্যায় ঘর ছাড়ার আগে স্বামী তাকে বলেছিলেন, তুমি একটা কফি বানিয়ে দাও, আমি নামাজ পড়ে বের হবো। এটিই ছিল তাদের শেষ কথা।
বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁও থানায় স্বামী হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেন সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করা উচিত। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচার না হলে আরও পরিবার এভাবে নিঃস্ব হয়ে যাবে।
পরিবারের দাবি, ব্যবসা বা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের কথা তাদের জানা নেই। সুরাইয়া বেগম বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে পানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মুসাব্বির। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর অন্যদের দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ৮টার দিকে ফার্মগেট পার হয়ে কারওয়ান বাজারের বিপরীত পাশে স্টার কাবাবের সামনে মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত মুসাব্বিরকে লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে মুসাব্বির ও আবু সুফিয়ান গুলিবিদ্ধ হন।
আহত অবস্থায় দুজনকে প্রথমে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুসাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আবু সুফিয়ানকে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, আবু সুফিয়ানের পেটের বাম পাশে গুলি লেগেছে এবং জরুরি বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (এডিসি) ফজলুল করিম বলেন, স্টার কাবাবের পাশের গলিতে গুলির ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছেন। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইকে/টিএ