ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকায় গার্ড পাঠাচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ব্রাজিল। দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম এ দেশটি ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী রোরাইমা রাজ্যে ন্যাশনাল পাবলিক সিকিউরিটি ফোর্স (এফএনএসপি) মোতায়েন করতে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দেশটিতে জারি করা এক সরকারি ডিক্রিতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সংখ্যক সেনা পাকারাইমা শহর ও রোরাইমার রাজধানী বোয়া ভিস্টাতে পাঠানো হবে। এটি সীমান্ত থেকে প্রায় ২১৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। দেশটিতে অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর উত্তেজনার কারণে সীমান্ত পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ব্রাজিল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ সন্ত্রাসী দল ও মাদক চোরাচালান ঘটছে এমন খবরের প্রেক্ষাপটে এটি করা হয়েছে।
সরকারি ডিক্রিতে বলা হয়েছে, সেনারা সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মানুষ ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সহায়তা করবে। স্থানীয় মিডিয়া উল্লেখ করেছে যে ভেনেজুয়েলার সীমান্তে ইতোমধ্যেই সেনা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী যেমন ভেনেজুয়েলার কালেক্টিভস এবং ব্রাজিলের নানা অপরাধী গোষ্ঠী এই অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে।
এর আগে মাদুরো ও তার স্ত্রীর মুক্তি চেয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বিক্ষোভ করেন হাজার হাজার নারী। এ সময় বিক্ষোভকারী নারীরা হাতে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্যারোলিনা নামের এক নারী বলেন, আমরা আমাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী ফাস্ট লেডি এবং আমাদের প্রথম নারী যোদ্ধা সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তির দাবি জানাতে এখানে জড়ো হয়েছি। ১৯৯৪ সালে হুগো চাভেজকে মুক্ত করার পর থেকেই মাদুরো আমাদের পথপ্রদর্শক। আর আমরা তার সঙ্গেই আছি। তিনি আরও বলেন, মাদুরো ফিরে না আসা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়ব না।
গেল শনিবার ভেনেজুয়েলায় সামারিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে মার্কিন বাহিনী দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালায় এবং মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযানে ১৫০টিরও বেশি বিমান অংশ নেয় এবং এতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার সদস্যসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হন।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে। মেক্সিকো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও চিলিসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ এবং ব্রিকস সদস্য রাশিয়া ও চীন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পিআর/এসএন