ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ তার দাখিল করা হলফনামায় নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি।
হলফনামায় শামা ওবায়েদ তার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। এর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের মুনাফা ৪৬ হাজার ৪০৪ টাকা, চাকরি থেকে আয় ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানি ভাতা থেকে ৯৬ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণে তার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৪ কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার, বন্ড ও ঋণপত্রে বিনিয়োগ ৫০ লাখ টাকা এবং একটি জিপ গাড়ির মূল্য ৩০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে ৫০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ করা হলেও এর কোনো মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।
স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে শামা ওবায়েদ তার অর্জনকালীন মূল্য দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বর্তমান আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি টাকা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কোনো মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি। এছাড়া ঢাকার বনানীতে ৩ হাজার ২৪৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য দেখানো হয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
২০১৮ সালে দাখিল করা হলফনামার সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, সে বছর তার মোট আয় ছিল ৩০ লাখ ৬ হাজার ৮২৫ টাকা। বর্তমান হলফনামায় আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে তার আয় কমেছে ৮ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ টাকা। তবে একই সময়ে তার অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে। ২০১৮ সালে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৩ লাখ ৮২ হাজার ২৮৭ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকা। সাত বছরে অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ৩ হাজার ৫১৯ টাকা।
অন্যদিকে, স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে সামান্য হ্রাস লক্ষ্য করা যায়। ২০১৮ সালে তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সাত বছরে স্থাবর সম্পত্তি কমেছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
২০১৮ সালের হলফনামায় শামা ওবায়েদ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ১ দশমিক ৫ একর কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার মূল্য তার জানা ছিল না। বর্তমান হলফনামায় তিনি কোনো কৃষিজমি দেখাননি, তবে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৫০ শতাংশ অকৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন। ২০১৮ সালে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তিনটি ফ্ল্যাটের মোট আয়তন ছিল ৬ হাজার ৬১০ বর্গফুট, যার আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছিল ৭ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
ঋণের তথ্যেও পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালে অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে তার নামে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড থেকে দুই ধাপে ৩ কোটি ৫ লাখ টাকার ঋণ ছিল। তবে ২০২৫ সালের হলফনামায় তার নামে কোনো ঋণের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ২০১৮ সালে বিয়ের উপহার হিসেবে পাওয়া ৬০ তোলা স্বর্ণের কথা উল্লেখ থাকলেও বর্তমানে স্বর্ণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৫০ তোলা।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। গত ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি শামা ওবায়েদ নিজেও স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, আগের নির্বাচনের সময় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে তেমন বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব বাতিল করে নির্বাচন করেন। এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জানানো হলে তিনি সেখানে তার নাগরিকত্ব বাতিল করেন এবং এবারের হলফনামায় সেটি উল্লেখ করা হয়েছে।
এবি/টিকে