বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ভোট একটি আমানত এবং এই আমানতকে উপযুক্ত ও সৎ ব্যক্তির হাতেই দিতে হবে। খেয়ানতকারীর হাতে ভোটের আমানত তুলে দিলে সেই খেয়ানতের দায় ভোটারদের ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) খুলনা-৫ আসনে ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট মানেই শক্তি। একজন রিকশাচালকের ভোটের মূল্য যেমন, ঠিক তেমনি রাষ্ট্রপতির ভোটের মূল্যও সমান। একটি ভোটেই কেউ জেতে, একটি ভোটেই কেউ হারে। তাই এই শক্তি যদি বেনামাজি, অসৎ, চাঁদাবাজ, মাস্তান কিংবা নেশাখোরের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে সেই শক্তি ব্যবহার করে তারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, চাল-গম ও ত্রাণের টাকা লুটপাট এবং জনগণের ওপর জুলুম চালাবে।
তিনি বলেন, আমার দেওয়া ভোটের কারণে যদি কেউ এই ক্ষমতা পেয়ে চুরি, দুর্নীতি ও অন্যায়ের সঙ্গে জড়ায়, তাহলে সেই গুনাহের অংশীদার আমিও। বিপরীতে, আল্লাহভীরু, দ্বীনদার ও সৎ মানুষকে ভোট দিয়ে দায়িত্বে বসালে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, আর সেই নেকির ভাগ ভোটাররাও পাবেন এমন ধর্মীয় ব্যাখ্যাও দেন তিনি।
সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় সংসদ হচ্ছে দেশের আইনসভা। ৩০০ জন সংসদ সদস্য যে আইন তৈরি করবেন, সেই আইন দিয়েই দেশ চলবে এবং তারাই প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন। যদি ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০টির বেশি আসনে সৎ, নামাজি ও আল্লাহভীরু মানুষ পাঠানো যায়, তাহলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, এবার জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলামসহ ছয়টি ইসলামী দল এবং আরও ছয়টি দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলসহ মোট ১২টি দল একযোগে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তাদের কেউই বুক চিতিয়ে বলতে পারেনি যে তারা চুরি, দুর্নীতি ও জুলুমমুক্ত শাসন দিয়েছে এমন অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এতদিন আলেম-ওলামাদের শুধু মসজিদ, মাদরাসা, জানাজা ও ইমামতির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এবার আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যারা মসজিদের ইমাম হবে, তারাই রাষ্ট্রেরও ইমাম হবে, যারা জানাজার ইমাম হবে, তারাই পার্লামেন্টেরও ইমাম হবে বলেন তিনি।
বক্তব্য শেষে তিনি দেশবাসীর জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বলেন, আল্লাহ যেন দেশের সব কাজকে ইবাদত হিসেবে কবুল করেন এবং জাতিকে খেয়ানত থেকে রক্ষা করেন। তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তাদের চরিত্র, সততা ও আদর্শের পরীক্ষা হয়ে গেছে আর তারা সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। তাই ফেল করা শক্তিকে আর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব না দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এসকে/টিকে
এদিন বিকেল ৪টায় বান্দা হিন্দু সদস্য সমাবেশ ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি ডা. নিত্য রজ্ঞন রায়ের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার সিংহ, অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ মন্ডল, ডা. সুজিৎ সরকার, মাওলানা কামরুল ইসলাম, মাওলানা আসাদুজ্জামান, মাওলানা আইয়ুব আলী, মলয় বিশ্বাস, প্রীতিশ মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডল, দূর্গা দাস বিশ্বাস ও রুইদাস মন্ডল প্রমূখ।
এর আগে বেলা ১১টায় মইখালী সহযোগী সদস্য সম্মেলন মেহের আলী সরদারের সভাপতিত্বে এবং যুবনেতা আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে বক্তব্য দেন জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডা. হরিদাস মন্ডল, অ্যাডভোকেট অশোক সিংহ, অ্যাডভোকেট শেখ জাকিরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ মন্ডল প্রমূখ।
সকাল ১০টায় উলা সরদারপাড়া ইউনিটের সহযোগী সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সকাল ৯টায় উলা ৩নং ওয়ার্ড মহিলা সহযোগী সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন তিনি। সকাল ৮টায় মাগুরখালী ওয়ার্ড প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
এসকে/টিকে