মন শান্ত রাখার ৫টি উপায়

দিনভর কাজের চাপ, অবিরাম বার্তার শব্দ আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কৃত্রিম সুখ—সব মিলিয়ে আধুনিক জীবনে অশান্ত মন যেন নিত্যসঙ্গী। রাতের বিছানায় শরীর এলিয়ে পড়লেও মাথার ভেতর ভাবনার স্রোত থামে না। কখনো নিজের অজান্তেই প্রশ্ন জাগে, এত দৌড়ঝাঁপের ভিড়ে সত্যিকারের শান্তি কোথায়?

এই বাস্তবতার মাঝেই বিজ্ঞান আশার আলো দেখাচ্ছে। স্নায়ুবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্ব বলছে, মন শান্ত রাখতে পাহাড়ে পালিয়ে যাওয়ার দরকার নেই। বরং প্রতিদিনের জীবনে ছোট ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই অশান্ত মন ফিরে পেতে পারে স্থিরতা।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধীরে ও গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত বার্তা পাঠায়। বুক ধড়ফড় করলে কয়েক মুহূর্ত থেমে শ্বাসের ছন্দ ঠিক করলেই শরীর বুঝে নেয়, বিপদের কিছু নেই। এতে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক হয়, চিন্তার গতি কমে আসে।

সবুজের কাছাকাছি থাকার মধ্যেও আছে মনের ওষুধ। গাছপালা, খোলা আকাশ কিংবা পার্কের নীরব হাঁটাচলা মস্তিষ্কের ভাবনাচিন্তার ভার লাঘব করে। প্রতিদিন অল্প সময় প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকলেও মন পায় এক ধরনের বিশ্রাম।

অন্যদিকে মাথার ভেতর জমে থাকা চিন্তাকে কাগজে নামিয়ে আনার অভ্যাসও কার্যকর। সারাদিনের দুশ্চিন্তা, না বলা কষ্ট কিংবা ছোটখাটো হতাশা লিখে ফেললে মনের বোঝা হালকা হয়। ঘুমের আগে কয়েক মিনিটের এই অভ্যাস অনেক সময় গভীর ঘুম এনে দেয়।

মন খারাপ হলেই পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত পর্দা দেখা মনের অস্থিরতা আরও বাড়ায়। তাই প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় নিজেকে পর্দামুক্ত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবারে কথা বলা কিংবা বইয়ের পাতায় ডুবে যাওয়াও হতে পারে শান্তির বিকল্প পথ।

শরীর নড়াচড়া করাও মনের জন্য জরুরি। ভারী ব্যায়াম নয়, হালকা হাঁটাহাঁটি বা শরীর টানটান করার অভ্যাসেই শরীর থেকে নিঃসৃত হয় আনন্দের অনুভূতি জাগানো উপাদান। এতে দুশ্চিন্তা কমে, মন হয় হালকা।

বিজ্ঞান বলছে, সমস্যা কখনোই পুরোপুরি দূর হয় না। তবে নিজেকে শান্ত রাখার এই ছোট ছোট চর্চা সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। হয়তো এই অভ্যাসগুলোর মাধ্যমেই একঘেয়ে জীবনের ভেতর জন্ম নিতে পারে নতুন স্বস্তি।

Share this news on:

সর্বশেষ

img
ইরানকে স্বাধীনতা এনে দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প Jan 11, 2026
img
ইরানে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ডাক রেজা পাহলভির, শহর দখলে নেওয়ার আহ্বানর Jan 11, 2026
img
‘আমি হয়তো আর অল্প ক'দিন বাঁচব’, চেলসির সাবেক ফুটবলারের আবেগী বার্তা Jan 11, 2026
img
হামাসকে ’সন্ত্রাসী সংগঠন’ বললেন মামদানি! Jan 11, 2026
img
এফএ কাপে চমক, চ্যাম্পিয়নদের ছিটকে দিল পাঁচ বছর বয়সী দল Jan 11, 2026
img
চট্টগ্রামে আলিফ হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে Jan 11, 2026
img
নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠায় আরেকবার চেষ্টার আহ্বান মাহফুজের Jan 11, 2026
img
কারাগারে কাটানো অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলেন রোনালদিনহো Jan 11, 2026
img
মোটরসাইকেল কিনলে দুটি হেলমেট ফ্রি দেওয়া বাধ্যতামূলক হচ্ছে: বিআরটিএ চেয়ারম্যান Jan 11, 2026
img
আপিল শুনানির প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১ জন Jan 11, 2026
img
নারায়ণগঞ্জে সিমেন্ট কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দগ্ধ ৮ Jan 10, 2026
img
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ গেল ৬ জনের Jan 10, 2026
img
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এম এ খালেক জানালেন, জোনায়েদ সাকিকে সংসদে পাঠাতে হবে Jan 10, 2026
img
নেত্রকোনায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের Jan 10, 2026
img
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা নেইমারের Jan 10, 2026
img
উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমানের বিকল্প নেই: মতিউর রহমান Jan 10, 2026
img
হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্তরা এখনো আইনের আওতার বাইরে: জামায়াত আমির Jan 10, 2026
img
আপিল শুনানির প্রথম দিনে কারা প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ও হারালেন Jan 10, 2026
img
মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানী করা মানে দেশের স্বাধীনতা অর্জনকেই অস্বীকার করা: কামরুল হুদা Jan 10, 2026
img
চাঁদপুর-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মানসুর আহমদ সাকী Jan 10, 2026